মালয়েশিয়ার ইউনাইটেড ম্যালেজ ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনও দুটি বড় শক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে। সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি সদস্যদের অবিচল আনুগত্য। তবে একই সঙ্গে দলটি আত্মতুষ্টিতে ভুগতে পারে না, কারণ বাস্তবতায় মালয় জনগণের সঙ্গে আগের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর নেই।
দলটির উপ-সভাপতি মোহাম্মাদ (টোক মাত) বলেন, ইউএমএনও’র ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেবল অতীত স্মরণে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কনভেনশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার একটি মুহূর্ত এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা। শুধু নস্টালজিয়ায় ডুবে থাকলে জনগণের ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়।
তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই ইউএমএনও জাতীয় সাফল্যের বর্ণনা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পাচ্ছে, যা দলের জন্য উদ্বেগজনক।
এটি একটি বাস্তবতা, যা আমাদের স্বীকার করতে হবে এবং সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, ইউএমএনওকে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। কর্মদক্ষতা, সততা এবং দৃশ্যমান সংস্কারের মাধ্যমে।
টোক মাত প্রশ্ন তুলে বলেন, ভবিষ্যতের জন্য ইউএমএনও’র ভিশন কী? আমরা কেমন মালয়েশিয়া গড়তে চাই? এবং কেমন মালয় সমাজ তৈরি করতে চাই?” তিনি উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ও ডিজিটাল বিশ্বে চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠছে, তাই দলকে সময়োপযোগী চিন্তাভাবনা গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি দলের নেতাকর্মীদের অতীত সাফল্যের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতির আহ্বান জানান। ইতিহাস বিক্রি করা বন্ধ করে ভবিষ্যৎ গড়ার রাজনীতি করতে হবে, বলেন তিনি।
রেমবাউ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, মালয় জনগণ এখন আবেগ বা সহানুভূতির রাজনীতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দৃঢ় আস্থা দেখতে চায়। তারা আর আবেগঘন আবেদন বা অতীতের ঋণের কথা শুনতে চায় না বরং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা চায় যোগ করেন তিনি।
এদিকে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইউএমএনও’র শক্তি এখনও অটুট সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সদস্যদের অবিচল আনুগত্য। বিভিন্ন সংকট আমরা অতীতে মোকাবিলা করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি, সদস্যদের আনুগত্য আমাদের বড় শক্তি, বলেন তিনি।
এই দুই শক্তিকে ভিত্তি করে দলটি পুনর্গঠন, পুনরুদ্ধার এবং আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া ইউএমএনও সভাপতি আহমাদ জাহিদ হামিদি প্রস্তাবিত ‘রুমাহ বাংলা’ উদ্যোগকে মালয় সম্প্রদায়ের সমর্থন পুনরায় একত্রিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে অনলাইনে সহজে সদস্যপদ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে সতর্কবার্তায় টোক মাত বলেন, “বাস্তবতা হলো, আগের মতো মালয় জনগণের সঙ্গে ইউএমএনও’র সম্পর্ক আর ততটা ঘনিষ্ঠ নয়। কেউ কেউ মনে করেন, এই দলটির আর প্রয়োজন নেই।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের আর শুধু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। বরং ভবিষ্যতের জন্য ইউএমএনও’র ভিশন কী সেটার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
