আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

শীতকালীন আগাম জাতের নানা ধরনের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের সমারোহ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, শিম, মুলা, পালং, বরবটি ও বিভিন্ন প্রজাতির শাকসহ নানা জাতের শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠেছে গ্রামীণ এ জনপদ। মৌসুমের তুলনায় আগাম সবজিতে দাম বেশি হওয়ায় প্রায় কোটি টাকার আগাম সবজি বিক্রির আশা করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম জাতের সবজি চাষ করে উপজেলার কৃষকরা সফল হচ্ছেন। তাই শীত শুরুর আগেই ১৮ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় ফুলবাড়ীতে এবার ২৫ হেক্টর জমিতে বেশি শীতকালীন আগাম সবজি উৎপাদন হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আগাম শীতকালীন সবজি চাষের জন্য ফুলবাড়ীতে ৭৫০ হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ হেক্টর বেশি। এই পরিমাণ জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন সবজি। প্রতি কেজির দাম ৫০ টাকা ধরলে এই পরিমাণ সবজির বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি টাকা। এসব সবজির কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। কৃষকের সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লাভের মুখ দেখবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি সবজিক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। কেউ নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ কীটনাশক ছিটাচ্ছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন। আবার কেউ ক্ষেত থেকে সবজি তুলে বিক্রির জন্য বাজারে নিচ্ছেন। অনেকে নতুন করে শীতকালীন সবজির চারা রোপণেও ব্যস্ত। মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, বেগুন মুলা, বরবটিসহ হরেক রকম সবজি।

কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় স্বল্প সময়ে শীতকালীন সবজি আসবে। প্রতি বিঘায় সবজি উৎপাদনে যে খরচ, মাঠ থেকেই তা প্রায় দ্বিগুণ দামেই বিক্রি হয়। আর স্বল্প সময়েই বাজারজাত করা যায় বলে এসব সবজি চাষে ঝুঁকেছেন তারা।

পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, সারা বছরই বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করি। শীতকালীন আগাম জাতের মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, পালং শাক ও ধনেপাতার আবাদ করা হয়। বাজারে প্রতিটি সবজিরই ব্যাপক চাহিদা ও সঙ্গে দাম ভালো পাওয়া যায়। বিক্রির জন্য এখন আর বাজারে যেতে হয় না। ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যায়, তাই লাভও তুলনামূলক বেশি হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় ৫৮০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ৪২০ হেক্টরে, টমেটো ১০৮ হেক্টরে, মুলা ৩০ হেক্টরে, শিম ৪০ হেক্টরে, বেগুন ৮০ হেক্টরে, করলা ৫০ হেক্টরে, মিষ্টি কুমড়া ৫০ হেক্টরে এবং শসা ৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। আগাম জাতের সবজি চাষে দেশ একদিকে যেমন সবজিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা। তাই এর উৎপাদন আরও বাড়াতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এজন্য আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও রোগবালাই দূর করার জন্য সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন