আজ ফিরছেন মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া ৮ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দেশে ফিরছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৮৯ নম্বর ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৬টায় তাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের উদ্ধার এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রক্রিয়ায় থাইল্যান্ডের স্থানীয় এনজিও ‘সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স ইন হিউম্যান ট্রাফিকিং’ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছে ব্র্যাক।

ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছে, তাদের কাউকে দুবাই, কাউকে মালয়েশিয়া আবার কাউকে সরাসরি ঢাকা থেকে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার সংক্রান্ত আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়ে সট হয়ে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে পাচার করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।

ভুক্তভোগীদের একজন মেহরাজ হাসান জানান, তাকে জোরপূর্বক দেড় বছরের চুক্তিতে সই করানো হয়েছিল। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে তাকে রোদে মাঠে দৌড়ানো, ২০ কেজি ওজনের পানির পাত্র বহন করা এবং অন্ধকার ঘরে আটকে রাখার মতো অমানবিক শাস্তি দেওয়া হতো। অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও জানান, ট্যুরিস্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে ঢোকানোর পর তাদের জীবন বিপন্ন করে সাইবার জালিয়াতির কাজে বাধ্য করা হতো।

খুলনার মিনহাজুল হোসেন জানান, এক বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি, বরং দেশে ফেরার বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয়েছিল। তাদের প্রধান কাজ ছিল ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। এই লক্ষ্য পূরণে সামান্য ভুল হলেই চলতো চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

দেশে ফেরা এই ৮ জন হলেন- লালমনিরহাটের মো. আব্দুল মালেক ও হাবিবুর রহমান, ঢাকার রহিম বাদশা, খুলনার এসকে মিনহাজুল হোসেন, নরসিংদীর মো. মেহরাজ হাসান, ফরিদপুরের রিয়াজ ফকির, গাজীপুরের রিপন মিয়া এবং বান্দরবানের উলহাসায় মারমা।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর একইভাবে ১৮ জন বাংলাদেশি মিয়ানমার থেকে ফিরেছিলেন। বিদেশের মাটিতে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ভিত্তিক চাকরির প্রলোভনে পা না দিতে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন