জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি এমাজউদ্দীন মন্ডল বলেছেন, আমরা গুপ্ত ছিলাম বলেই আজ তোমরা সরকারে। অতএব ‘গুপ্ত’ হওয়া আমাদের জন্য সম্মানের। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে রাজশাহীতে আয়োজিত গণমিছিল ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য জোট এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে এমাজউদ্দীন মন্ডল স্লোগান তুলে বলেন, তুমি কে, আমি কে? এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জবাবে বলেন, গুপ্ত, গুপ্ত। তিনি আরও বলেন, এই গুপ্তদের কারণেই বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, এটি আমাদের অহংকার।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র বন্ধ করুন। শেখ হাসিনা পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আর আপনি গুপ্তদের কারণেই লন্ডন থেকে দেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। পরিবারতন্ত্র বন্ধ না হলে আর জীবনে বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করতে বিএনপি সন্ত্রাসী ক্যাডারদের ব্যবহার করছে এবং তারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
বিকাল ৫টায় মহানগরের আলুপট্টি মোড় থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাটার মোড়ে সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে।
জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার এই সরকারের নেই।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমির ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন সরকার, ব্যবসা ও শিল্পবিষয়ক সম্পাদক একেএম সারোয়ার জাহান প্রিন্স, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজির প্রমুখ।
