চাঁদপুরের কচুয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে এক নারীর কাছে চাঁদা দাবি ও তাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি ভুক্তভোগীর বসতঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দিলে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী।
মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক কচুয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। পরে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কচুয়া থানা পুলিশ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলে দেয়।
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা বাদী ভুক্তভোগী নারীর (৪২)-এর বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ৬ অক্টোবর কচুয়া আমলি আদালতে মামলা করেন তিনি।
মামলার আসামিরা হলেন- আইনগিরি গ্রামের মৃত আনু মিয়ার ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৪৫) এবং মো. মোবারক হোসেনের ছেলে মো. আজিদ উল্লাহ (৪০)। অভিযোগে আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, স্বামীর সঙ্গে তালাকের পর তিনি ছেলে রাসেল ওরফে মানিককে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছেন। এ সুযোগে আসামিরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি-ধমকি দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসবের প্রতিবাদ করায় তার ছেলে রাসেলকে একটি চুরির মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বাদী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন আসামিরা ভুক্তভোগীকে বলেন, তিনি ও তার ছেলে রাসেলকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে হলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক বসতঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন দুই হাত দিয়ে বাদীর গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় আসামিরা লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনাটি দেখতে পান। পরে আসামিরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে বাদী ও তার ছেলে রাসেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে মরদেহ মাটির নিচে গুম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদী বলেন, ‘বিচারকের নির্দেশের কারণে আমি আবার ঘরে বসবাসের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু এখনো আমি শঙ্কায় রয়েছি। যে কোনো সময় আসামিরা আমার ও সন্তানের ক্ষতি করতে পারে।’
