‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয় তোমার’, প্রকল্প পরিচালককে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। শনিবার তিনি পরিদর্শনকালে প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি স্লুইসগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ, রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্প এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন।

১৩ বছর ধরে চলা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প তদন্তে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষ তাদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা তাকে জানান। সড়কের একপাশে স্লুইসগেটের ওপারে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ দেখে কেডিএ’র কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন সচিব।

এ সময় নাসিমুল গনি প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয় তোমার? তুমি এখান থেকে পানি বের হওয়ার রাস্তা তৈরি করেছো। পানি যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য স্লুইসগেট করেছো। আবার তার সামনে দিয়ে রেখেছো বাঁধ। এর মানেটা কী?’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন সড়কটির কাজ এত দিনে শেষ হয়নি, এখন কী অবস্থায় রয়েছে এবং কাজের মান কেমন— তা আমরা দেখে গেলাম। দ্রুত যাতে কাজটি শেষ হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খুলনা সার্কিট হাউজে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি সার্কিট হাউজ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ২১ জুলাই দ্বিতীয় দফা প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়। তখন দ্রুত কাজ শেষ করার শর্তে ২৫৯ কোটি টাকার দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

ছয় বছর পর প্রকল্পের ব্যয় তৃতীয় দফা সংশোধন করে গত ৯ জুন একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় প্রকল্পটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৩ বছরেও সড়কটি কেন শেষ হয়নি, তা জানতে চেয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয় ২৮০ কোটি টাকার সংশোধনী প্রকল্পটি।

সভায় সড়কের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ ও গাফিলতি খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য করা হয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর