আ.লীগ নেতার পলায়ন, ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ এএম

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর রাতে ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়।

রেনু মিয়া উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে।

পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর রেনু মিয়াকে হাতকড়া পরানো হলে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

ঘটনার পর একাধিক দল নিয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত ১০টার দিকে মাধবদী এলাকা থেকেই রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। 

রেনু মিয়াকে আটকের পর তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ ৭ নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন