ঈদ উপলক্ষে কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ আয়োজন

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ১০:২১ এএম

উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন সারা দেশের প্রায় ৮২ হাজার বন্দি। ঈদ উপলক্ষে দেশের ৭৪টি কারাগারে ঈদের জামাত, বিশেষ খাবার ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের সব বন্দির জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। 

কারা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাত শেষে বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তাদের দেয়া হয় পায়েস ও মুড়ি। ঈদের দিন দুপুরে বন্দিদের দেয়া হবে পোলাও, রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, চমচম, কোমল পানীয়, পান-সুপারি ও সালাদ। রাতের খাবারে রাখা হয়েছে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।

কারা অধিদপ্তর জানায়, ঈদ উপলক্ষ্যে কারাগারগুলোতে বন্দিদের স্বজনদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। দর্শনার্থীদের জন্য ফ্রি জুস কর্নার, শিশুদের জন্য চকলেট ও চিপস বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগও দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে থাকা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন মামলার ১৩০ জন বিশেষ বন্দিও ঈদের এসব সুবিধা পেয়েছেন। কারাগারের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেখানে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৩০ জন বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আরও অনেকে।

সূত্র জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো নতুন পোশাক, পাঞ্জাবি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কারা বিধি অনুযায়ী তারা গ্রহণ করেছেন। বিশেষ কারাগারে থাকা অধিকাংশ বন্দিই বয়স্ক ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। কারাগারেও তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে।

গত রোজার ঈদের মতো এবারও মাঠে ঈদের জামাতে অংশ নেন রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে থেকে তিনি অন্য বন্দিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় তিনি বিশেষ কারাগারের বাউন্ডারির ভেতরে পৃথক একটি কক্ষে অবস্থান করছেন।

এসব বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া আয়োজন এবং পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব সুবিধা শুধুমাত্র বন্দিদের নিজ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য।

কারা সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় বিভিন্ন কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দ্বিতীয় দিনে বন্দিদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ঈদের দিন থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন বন্দিরা পরিবারের দেওয়া খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একইভাবে একদিন আনডিউ সাক্ষাৎ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট আনডিউ কথা বলার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর