রেনে হিগুইতা নামটা হয়তো অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে অচেনা। কিন্তু উপরের ছবিটা কম-বেশি সবার কাছে পরিচিত। ১৯৮৯ সালে আতলেতিকো নাসিওনালকে কোপা লিবের্তাদোরেস জেতানো কিংবা বিখ্যাত ‘স্করপিয়ন কিকে’ (শরীরের পেছনের দিক থেকে দুই পা ওপরের দিকে বাঁকিয়ে গোড়ালির সাহায্যে বল কিক করা) বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কলম্বিয়ার কিংবদন্তি গোলরক্ষক।
ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ফুটবল বিপ্লবীর জীবন শুধু মাঠের কীর্তিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারি পাবলো এসকোবারের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং অপহরণ কাণ্ডে জড়িয়ে জেল খাটার মতো ঘটনা তার জীবনকে করেছে নাটকীয়। সাবেক সতীর্থ কার্লোস ভালদেরামার ভাষায়, ‘হিগুইতা পাগল হতে পারেন, তবে তিনি একজন ভালো পাগল।
১৯৮০-র দশকের শেষভাগে কলম্বিয়ান ফুটবলের উত্থানে বড় ভূমিকা ছিল ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার হিগুইতার। কেবল গোলপোস্ট সামলানো নয়, মাঝমাঠে উঠে ড্রিবলিং করা কিংবা পেনাল্টি ও ফ্রি-কিক থেকে নিয়মিত গোল করায় তিনি ছিলেন অন্যন্য। ১৯৮৯ সালের কোপা লিবের্তাদোরেসের ফাইনালে পেনাল্টি শ্যুটআউটে অলিম্পিয়ার একাধিক শট ঠেকানোর পাশাপাশি নিজে গোল করে আতলেতিকো নাসিওনালকে প্রথমবার ট্রফি এনে দেন তিনি।
তবে সেই সময়ে কলম্বিয়ার ফুটবল অঙ্গনে মাদকের অন্ধকার জগতের প্রভাব ছিল বেশ গভীর। কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের ক্লাব নাসিওনালের তারকা হওয়ার সুবাদে তার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ওঠে হিগুইতার। ১৯৯১ সালে এসকোবারের ব্যক্তিগত কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রকাশ্যে বন্ধুত্বের কথা স্বীকার করে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েন এই গোলরক্ষক।
হিগুইতার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় ঘোরে ১৯৯৩ সালের মে মাসে। এসকোবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মার্সেলাকে অপহরণ করা হয়। মেয়েটির পরিবার ও অপরাধীদের অনুরোধে হিগুইতা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ পৌঁছে দিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারে ফিরিয়ে দেন তিনি।
তবে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ দেওয়া ৫০ হাজার ডলার নেওয়ার কারণে নতুন একটি আইনে ফেঁসে যান তিনি। কিডন্যাপিং থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। টানা ৯ মাস জেলে কাটাতে হয় হিগুইতাকে। অভিযোগ রয়েছে, পলাতক এসকোবারের গোপন আস্তানার খোঁজ পেতে পুলিশ তার ওপর মানসিক নির্যাতনও চালিয়েছিল।
কারাগারে থাকার কারণে ঐতিহাসিক ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি হিগুইতা। মুক্তি পাওয়ার পর আবারও জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। আর ১৯৯৫ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে সেই স্মরণীয় ‘স্করপিয়ন কিক’ উপহার দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নিজেকে অমর করে রাখেন। বিতর্ক আর কীর্তির দোলাচলে রেনে হিগুইতা আজও বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য চরিত্র।
সূত্র: গোলডটকম।
