সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি টি-১০ লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, খেলোয়াড় প্রতি ১০ হাজার মার্কিন ডলার নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ফি না দিলে কাউকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। পিসিবির এই আকস্মিক শর্তে বিপাকে পড়েছে দলগুলো।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্লেয়ার ড্রাফটের পর থেকেই পিসিবির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল লিগ কর্তৃপক্ষ। তবে ৭ নভেম্বর টুর্নামেন্ট শুরু হতে যাওয়ার কিছুদিন আগে পিসিবি এই অর্থ দাবির কথা জানায়। ড্রাফটে ৬টির মধ্যে ৫টি ফ্র্যাঞ্চাইজি মোট ১৬ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে দলে ভিড়িয়েছিল। এদের মধ্যে রয়েছেন নাসিম শাহ, শাদাব খান, মোহাম্মদ আমির, ফখর জামান ও ইফতিখার আহমেদের মতো তারকা খেলোয়াড়রা। পিসিবির এই অতিরিক্ত ফি দলগুলো পরিশোধ করবে, নাকি খেলোয়াড়রা নিজেদের বেতন থেকে দেবেন, তা নিয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি এরই মধ্যে বিকল্প খেলোয়াড়ের সন্ধান শুরু করেছে।
পিসিবির এমন নীতি নতুন নয়। সম্প্রতি নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) ক্ষেত্রেও খেলোয়াড় প্রতি ২৫ হাজার ডলার দাবি করেছিল তারা। ফলে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার টুর্নামেন্টে না খেলেই দেশে ফিরতে বাধ্য হন। মূলত যেসব লিগ থেকে পাকিস্তান ক্রিকেটের সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক বা খেলোয়াড় আদান-প্রদানের সুবিধা নেই, সেসব টুর্নামেন্ট থেকে পিসিবি এই ফি আদায় করার নীতি গ্রহণ করেছে।
এছাড়া ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ এমনিতেই সংকুচিত হচ্ছে। আইপিএল ছাড়াও ভারতীয় মালিকানাধীন দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এসএ২০’-এর মতো লিগগুলোতে পাকিস্তানিদের নেওয়া হয় না। এমন অবস্থায় পিসিবির খামখেয়ালি এনওসি নীতি ও আর্থিক দাবির কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক লিগে খেলার ভবিষ্যৎ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
