এবার রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি রেস্তোরাঁ মালিকদের

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে তীব্র গ্যাসের ঘাটতি ও দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে চরম চাপে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, চলমান এই সংকট দ্রুত নিরসনের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এই অভিযোগ তুলেছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে ইমরান হাসান বলেন, দেশে এখন লুটেরা, সাম্রাজ্যবাদীরা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। অধিকাংশ রেস্তোরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না। যারা কিনছে, তারা ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার কিনে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পেট্রোবাংলা এখন ঠুঁটো জগন্নাথের মতো বসে রয়েছে। সরকারের কোনো উপদেষ্টা এ নিয়ে কথা বলছেন না, কোনো কার্যক্রম নেই। ভোক্তা অধিদপ্তর কিছু লোকদেখানো জরিমানা করলেও, তা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

ইমরান হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। আশা করা হয়েছিল, পূর্বের অন্যায় ও অত্যাচার থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বর্তমান সরকারের অধীনে প্রতিবন্ধকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি রেস্তোরাঁ খাতে পড়ছে। এই খাত আজ গভীর সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে পাইপলাইন গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল, যেখানে রেস্তোরাঁ খাতে গ্যাসের ব্যবহার মাত্র ৫ শতাংশ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সরকারি আমলাদের যোগসাজশে বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে।

ইমরান আরও জানান, অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া রেস্তোরাঁ মালিকদের উপায় নেই, যার ফলে গ্রাহক হারাচ্ছেন এবং লোকসান বাড়ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কখনো তেলের সংকট, কখনো ডাল, চাল বা পেঁয়াজের ঘাটতি বাজারে দেখা দিচ্ছে।

ইমরান উল্লেখ করেন, কিছু কর্মচারী ও বহিরাগত ব্যক্তি শ্রমিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি, চাঁদাবাজি এবং অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে। মালিকদের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটছে। একটি কর্পোরেট গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবহার করে রেস্তোরাঁ খাত দখলের ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের চাঁদাবাজি ও হুমকি বন্ধ না হলে রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিকরা সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে: জ্বালানি সংকট নিরসন করা, ট্রেড ইউনিয়নের নামে রেস্তোরাঁ খাত দখলের উদ্দেশ্যে তৈরি নৈরাজ্য বন্ধ করা, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা ও ভোক্তা পর্যায়ে রেস্তোরাঁর খাবারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে রেস্তোরাঁ খাত রক্ষায় সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

মালিকরা উল্লেখ করেন, এই সেক্টরে ৩০ লক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ জড়িত। অদূর ভবিষ্যতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্য গ্রহণের জন্য রেস্তোরাঁর উপর নির্ভর করবে। রেস্তোরাঁ খাত দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই এই সেক্টরের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রয়োজন। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরি না হলে, হামলা-হুমকি ও গ্যাস সংকট সমাধান না হলে, ব্যবসায়ীরা এবং কর্মচারীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর