আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটির বেশি টাকা।
হলফনামার তথ্যমতে, সালাহউদ্দিন আহমেদের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ টাকা। কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ১৯ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য আমানত রয়েছে ২৬ লাখ টাকার। পেশা হিসেবে তিনি আইনজীবী ও ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর একটি প্রাইভেটকার ও দুটি শিপ রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর কাছে রয়েছে ১২ দশমিক ৩ তোলা স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৮ লাখ টাকার অধিক মূল্যের ইলেকট্রনিকস পণ্য ও আসবাব রয়েছে। তাঁর মালিকানায় রয়েছে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তাঁর মালিকানায় রয়েছে ২৪ দশমিক ৩৬ একর কৃষিজমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯৭ টাকা। অকৃষিজমির পরিমাণ ১ দশমিক ৭৬ একর, যার অর্জনকালীন মূল্য ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৫ টাকা। পেকুয়ায় তাঁর তিনতলা বাসভবনের আর্থিক মূল্য ২ কোটি ৮৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৫৫ টাকা। ঢাকার গুলশানে তাঁর মালিকানায় রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৭২০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া পেকুয়ায় একটি মাছের খামারে তিনি ১৫ লাখ টাকা এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
আয়ের খাতে উল্লেখ করা হয়েছে—কৃষি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পদ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, মাছের খামার থেকে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, শেয়ার থেকে ১১ হাজার ৩২৬ টাকা এবং কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানী বাবদ বছরে ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩১১ টাকা।
তার স্ত্রী হাছিনা আহমদের স্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয় ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৬ হাজার ১৭১ টাকা। এর মধ্যে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার ৪০৭ টাকা দামের ৯ দশমিক ৪৩ একর অকৃষি জমি, ২ কোটি ৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৪০ টাকা দামের ১ দশমিক ৩২ একর কৃষিজমি, ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৯২৪ টাকার কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ছয়তলাবিশিষ্ট ভবন দেখানো হয়।
এ আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার শহর আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৭০ হাজার ১৭১ টাকা। কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ডিপিএসে জমা রয়েছে ১৯ লাখ ২ হাজার ৮৫২ টাকা। তাঁর একটি প্রাইভেটকার রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন।
জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুকের কাছে রয়েছে ৩ দশমিক ২৭ তোলা স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ৮ হাজার ৭২০ টাকা এবং ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র। তাঁর কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। অন্য ব্যবসায় তাঁর মূলধন ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯২ টাকা এবং অংশীদারি মূলধন রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৭০৮ টাকা।
দুই প্রার্থীর হলফনামার তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন।
