আকবর আলি (রংপুর)
আমরা তো সবসময় জেতার জন্যই চেষ্টা করি। জাতীয় ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের প্রত্যেকের জন্যই সম্মানের। এবার যেহেতু ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতন বেড়েছে, এটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক একটা বিষয়। একই সঙ্গে এর সঙ্গে আরও বেশি দায়িত্বও এসেছে। বোর্ড আমাদের আরও ভালো পারিশ্রমিক দিচ্ছে, তাই একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আরও ভালো কিছু করে দেখানো। এবারও আমাদের চেষ্টা থাকবে ভালো ক্রিকেট খেলে শিরোপা ধরে রাখা।
জাকির হাসান (সিলেট)
আমাদের দলে অনেক দ্রুতগতির বোলার আছে, যাদের বেশিরভাগই জাতীয় দলের আশপাশে রয়েছে। রাহিন নামে একজন বাঁহাতি দ্রুতগতির বোলারকে আমার সম্ভাবনাময় মনে হয়। ব্যাটিংয়ে দিশানও গত বছর ভালো খেলেছে। আমাদের বোলাররা খুব পরিশ্রমী, নিয়মিত শরীরচর্চা, দৌড় ও বোলিং করে প্রস্তুত থাকে। এ ধরনের বোলারদের বিপক্ষে খেললে ব্যাটারদের কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা বাড়বে। জাতীয় ক্রিকেট লিগে এমন প্রতিযোগিতা থাকলে জাতীয় দলের জন্য আরও ভালো খেলোয়াড় তৈরি হবে।
মোহাম্মদ মিঠুন (খুলনা)
আমাদের বেশ কিছু বোলার একসঙ্গে উঠে যাওয়ায় গত কয়েক বছর আমরা বেশি সংগ্রাম করেছি। এখন চেষ্টা করছি কীভাবে জায়গাটা ফের শক্ত করা যায়। রাজ ভাই, আল আমিন, শিপলু ভাই, ডলার মাহমুদ ভাই—অনেক ভালো বোলার আমাদের দল থেকে উঠে এসেছেন। ফলে আমাদের মূল জায়গা বোলিং। নতুন খেলোয়াড় তৈরি করে সেই জায়গা শক্ত করতে হবে। সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের পারফরম্যান্স একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে পারব।
রাকিবুল হাসান (ময়মনসিংহ)
এ বছর আমরা ময়মনসিংহ বিভাগে খুব ভালোভাবে অনুশীলন করছি। ফিল্ডিং, দৌড়, শারীরিক সক্ষমতা—সবকিছু নিয়েই নিয়মিত কাজ হচ্ছে। দলের সবাই বেশ মনোযোগী। গত বছরও ভালো ক্রিকেট খেলেছি, এবার লক্ষ্য আরও ভালো করা। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করতে চাই। ময়মনসিংহের ক্রিকেটের একটি ঐতিহ্য ছিল। মাঝখানে দল ছিল না। গত বছর থেকে আবার শুরু করেছি। ভালো খেলোয়াড় তৈরি ও ভালো ফল করতে পারলে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।
ইফতেখার হোসেন (বরিশাল)
গত কয়েক বছর বরিশাল খুব ভালো করতে পারেনি। গত বছর শেষ ম্যাচটি জিততে পারলে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ হতে পারতাম। এবার আমি দায়িত্ব পেয়েছি, তাই দলকে আরও ভালো জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের দলে সিনিয়র খেলোয়াড় আছেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে দলকে আরও ভালো করা লক্ষ্য। এবার বাইরের অনেক খেলোয়াড় নেই। কিছু ভালো ব্যাটসম্যান এসেছে। যারা আছে, তাদের নিয়েই ভালো দল গড়তে চাই। সবাই একসঙ্গে সেরাটা দিতে পারলে ভালো কিছু সম্ভব।
মাহিদুল ইসলাম (ঢাকা)
একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখা ও আরও উন্নতি করা গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও সুযোগ পাওয়া কিংবা দলে টিকে থাকা সবসময় হাতে থাকে না। তাই নিজের খেলায় উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হয়। ঢাকার অনেক ভালো ইতিহাস আছে। গত দুই-তিন বছরে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অবসর নিয়েছেন। এখন তরুণরা আসছে, ভালো করার চেষ্টা করছে। আমরা ভালো খেলছি, তবে ধারাবাহিক নই। এবার পুরো মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে খেলার চেষ্টা থাকবে।
ইয়াসির আলী (চট্টগ্রাম)
দলের লক্ষ্য তো অবশ্যই সবসময় চ্যাম্পিয়ন হওয়া। পুরো দলকে পাওয়া গেলে এটি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী দল। তবে জাতীয় দল, উচ্চতর কর্মসূচি কিংবা অন্যান্য খেলার জন্য মাঝপথে সাত-আটজন খেলোয়াড় চলে যায়। তখন কিছুটা ভুগতে হয়। তবে এটি তরুণদের জন্য বড় সুযোগ। তারা খেলার সুযোগ পায়, উৎসাহিত থাকে এবং ভালো করার চেষ্টা করে। এবার দ্বিতীয় দল থাকায় সুবিধা হবে। নতুন খেলোয়াড়রা লাল বলের ক্রিকেটে অভ্যস্ত থাকবে।
প্রীতম কুমার (রাজশাহী)
অধিনায়কত্ব নিয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির কারণে তাদের খেলোয়াড়দের খুব বেশি পাওয়া যায় না। নিয়মিত পাওয়া গেলে দল আরও শক্তিশালী হতো। তবে বর্তমান দল নিয়েও ভালো সমন্বয় আছে। এবার বড় চ্যালেঞ্জ হবে, পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনো বিষয় নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের মানিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য। ম্যাচ ধরে এগিয়ে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী অবদান রাখতে চাই।
