বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার নিয়ে দেশজুড়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। এসময় তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেন।
আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, শুরু থেকেই আমরা দ্রুত বিচার চেয়েছি। আজ রায় ঘোষণা হবে, আমরা আশা করছি সুষ্ঠু বিচার হবে।
পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে, সেটাও চাই। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ায় তারা সন্তুষ্ট, তবে চূড়ান্ত মূল্যায়ন রায়ের পরই করবেন।
মেজ ভাই আবু হোসেন বলেন,আমাদের প্রত্যাশা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের ফাঁসির রায় দেওয়া হোক।
তিনি আরও বলেন, মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও পলাতক। রায় ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তাদের গ্রেফতার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালটি পরিচালনা করছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তার সঙ্গে রয়েছেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার ৩০ আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জন গ্রেফতার হয়েছেন। বাকিরা পলাতক, যাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত প্রসারিত করে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এই ঘটনা আন্দোলনের গতি বদলে দেয় এবং দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আজকের রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে কিনা,সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।
