কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঘরে রাখা মজুদকৃত পেট্রোল শরীরে ঢেলে আগুন লাগিয়ে ফাতেমা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জলিল আহমেদ জাবেদ (৩৫)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন কুলসুমা আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জাবেদকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামের অলি আহমেদের ছেলে জাবেদের সঙ্গে ফাতেমা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তাবাসসুম নামে ৮ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে ফাতেমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন তার স্বামী। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘদিন ধরে এসব নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন তিনি।
গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) সন্ধ্যায় পারিবারিক কলহের জেরে জাবেদ তার স্ত্রীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। এসময় ফাতেমা প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং ঘরে আগে থেকে মজুদ থাকা পেট্রোল শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে ফাতেমার মুখমণ্ডলসহ শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে যায়।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফাতেমাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান জাবেদ। সেখান থেকে তিনি ফাতেমার বোনকে ফোন করে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার কথা জানান। পরে স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ এপ্রিল (রোববার) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, শাহবাগ থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরে পুলিশ তৎপর হয়। পরে নিহতের বোন বাদী হয়ে স্বামী জাবেদকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
