দেশে ক্রমাগত বেড়ে চলা সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে চালকদের অদক্ষতা, অসচেতনতা, খামখেয়ালিপনা এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বড় ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে সড়কে সাধারণ মানুষের অসচেতনতা এবং একই রাস্তায় বিভিন্ন গতির ছোট-বড় যানবাহন চলাচলকেও দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
রবিবার (১৭ মে) রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দুর্ঘটনা রোধে গণসচেতনতা বাড়াতে আয়োজন করা হয়।
সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, সড়ক যোগাযোগ নিরাপদ করতে সরকার ইতোমধ্যে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত চোখ ও রক্তচাপ (প্রেসার) পরীক্ষা করা হবে। চালকরা মাদকাসক্ত কি না, তাও নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনাসহ জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায় সরকার। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৬২ জনের মাঝে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা করা হয়। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেল যৌথভাবে এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিআরটিএ-র প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
