শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে বাজারে ভিড় ছিল স্বাভাবিকের মতোই। তবে নিত্যপণ্যের দামের তালিকা চোখে পড়তেই ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ। কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর হঠাৎ বেড়েছে চিনির দাম। সেই সঙ্গে কিছুটা চড়া নাজিরশাইল ও পোলাওয়ের চালের দরও। আবার উল্টো চিত্র ডিম, মুরগি, পেঁয়াজ ও শীতের সবজির বাজারে—সেখানে মিলছে স্বস্তির খবর। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকা চিনির দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খোলা ও মোড়কজাত—দুই ধরনের চিনির দামই কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। নতুন মোড়কে আসা চিনির দাম কোম্পানিগুলো বাড়িয়েছে বলে জানান তাঁরা।
সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ৯০ টাকা। মোড়কজাত চিনি আগে ৯০–৯৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা বেড়ে ১০০–১০৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে সব দোকানে এখনো নতুন দরের মোড়কজাত চিনি পৌঁছায়নি। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ২০২৫ সালের অধিকাংশ সময় দেশে চিনির বাজার স্থিতিশীল ছিল। সরবরাহ ভালো থাকলেও হঠাৎ করেই পাইকারিতে ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ৩০০–৪০০ টাকা।
চালের বাজারেও কিছুটা নড়াচড়া দেখা গেছে। নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক মাস ভারত থেকে নাজিরশাইল চাল আমদানি হওয়ায় সরবরাহে চাপ ছিল না। তবে সম্প্রতি আমদানি কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দামের প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫–৮৫ টাকায়। পোলাওয়ের চালের দামও কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়ে এখন ১৩০–১৩৫ টাকা। তবে মিনিকেটসহ অন্যান্য চালের দামে পরিবর্তন নেই। মিনিকেট চালের মধ্যে রশিদ ব্র্যান্ড ৭২ টাকা, সাগর ও মঞ্জু ব্র্যান্ড ৮০ টাকা এবং মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। মোটা চালের কেজি এখনো ৫০–৫৫ টাকাতেই রয়েছে।
অন্যদিকে ডিম ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। সকালে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০–১১৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ টাকা। ফার্মের মুরগি প্রতি কেজি ১৭০–১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৫০–২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বিক্রেতারা জানান, শীতকালে রোগবালাই ও মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে অনেক খামারি মুরগি দ্রুত বিক্রি করেন। পাশাপাশি এই সময়ে ডিম ও মুরগির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় বাজারে দাম নেমেছে।
পেঁয়াজের বাজারেও বড় স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় এক মাস আগে বাজারে আসা নতুন দেশি পেঁয়াজ তখন বিক্রি হয়েছিল ১৩০–১৫০ টাকায়। ধাপে ধাপে দাম কমে আজ সকালে দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০–৬৫ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৬৫–৭০ টাকা।
শীতের সবজির সরবরাহ এখন পুরোদমে থাকায় সবজির বাজারও বেশ স্বাভাবিক। সকালে আলু বিক্রি হয়েছে ২০–২৫ টাকা, টমেটো ৮০–১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, শিম ৪০–৬০ টাকা, বেগুন ৬০–৭০ টাকা, মুলা ২৫–৩০ টাকা, শালগম ৩০–৪০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০ টাকা এবং লাউ ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মোটের ওপর বেশির ভাগ শীতের সবজির দামই ৫০–৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে চিনি ও চালের দাম বাড়লেও ডিম, মুরগি ও সবজির দাম ক্রেতাদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। শীত মৌসুমে সরবরাহ ও চাহিদার ওঠানামার কারণে এ ধরণের দামের পরিবর্তন স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
