নেত্রকোনার বারহাট্টার গোড়ল গ্রামে কাউনাই নদীতে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- জমাট বাঁধা সিমেন্ট, কাদাযুক্ত পাথর, ময়লাযুক্ত বালু ও মরিচাধরা রড ব্যবহারের মতো অনিয়ম।
জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার গোড়ল এলাকায় এক কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবির ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রুবেল মিয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি মরিচাধরা রড, জমাট বাঁধা সিমেন্ট ও নিম্নমানের সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের অগ্রগতির তুলনায় আগাম বিল নিয়েছে।
প্রায় ছয় মাস আগে সেতুর ওপর ঢালাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে সেন্টারিংয়ের কাজ করা হয়েছিল। পরে রডসহ সেই সেন্টারিং ভেঙে পড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
রোববার (৪ অক্টোবর) সেতুর ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলে সেখানে কাদাযুক্ত পাথর, ময়লাযুক্ত বালু ও জমাট বাঁধা সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ।
এ সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ও কাজের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অবশিষ্ট কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গোড়ল গ্রামের বাসিন্দা সুহেল মিয়া বলেন, এ সেতুতে সবচেয়ে বাজে কাজ হয়েছে। মরিচাধরা রডের ওপরও ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা আনিস তালুকদার বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে এই সেতু। কাজ চলাকালে উপজেলার কাউকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখিনি। পুরো কাজই দুই নম্বর হয়েছে। আজও প্রশাসনের সামনেই অনিয়ম হয়েছে। এরপরও কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ।’
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চলাকালে উপজেলা থেকে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি তদারকির জন্য থাকার কথা থাকলেও তার উপস্থিতি ও কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকার পরও কীভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা এক আনসার সদস্যকে ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের অনিয়ম পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে খুব দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে।’
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমরা কাজটি পরিদর্শনে যাই। সেখানে কিছু অনিয়ম দেখতে পাই। তাই কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
