জার্মান দলের ‘মৃতদেহে’ প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টায় ক্লপ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ‘ত্রাণকর্তা’ ক্লপের অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলকে অনেকবার ম্যাচে ফিরিয়েছেন এই মাস্টারমাইন্ড কোচ। কিন্তু পারফরম্যান্সটা বরাবরের মতোই দুর্বল ও হতাশাজনক। ঠিক গত এক দশকে জার্মান দলের অনেক ম্যাচে যেমনটা দেখা গেছে। গোলডটকম এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

মাত্র এক ম্যাচ দেখেই ক্লপ-যুগের বিচার করাটা বড্ড তাড়াহুড়ো হয়ে যায়। তবে শীর্ষমানের প্রতিভা তৈরিতে জার্মান ফুটবলের সংকটের চিত্র আবারও ফুটে উঠল। যদিও আগের কোচদের মতো পুরোনো খেলোয়াড়দের ওপরই কেবল নির্ভর করেননি ক্লপ। নতুন সমাধানের খোঁজে দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পাশাপাশি নতুন মুখদের সুযোগ দিয়েছেন তিনি। তারপরও মাঠের দুই প্রান্তেই ধুঁকতে দেখা গেছে দলটিকে।

মিডফিল্ডের গল্পটাও ছিল একই রকম। সাবেক কোচ জুলিয়ান নাগলসমানের অধীনে রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলার পর এই ম্যাচে কিমিখ আবারও মিডফিল্ডে ফিরেছিলেন। কিন্তু এনমেচা ও আমিরির সঙ্গে মিলে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে তিনি ব্যর্থ হন। স্বাগতিকরা একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত সমতাসূচক গোলটি (১-১) আদায় করে নেয়। 

জার্মান দলের ভঙ্গুর দশাটা সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে তাদের গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনের পরিসংখ্যানে। স্বাগতিকদের ৯টি শট ঠেকাতে হয়েছে তাকে। বদলি খেলোয়াড়রাও শুরুর একাদশের চেয়ে ভালো কিছু করতে পারেননি। উল্টো নেদারল্যান্ডসের গোলের পেছনে সবচেয়ে বড় দায়টা অভিজ্ঞ সের্গে জিনাব্রির। তার একটি ভুল পাস কেড়ে নিয়ে রুবেন ফন বোমেল বল বাড়িয়ে দেন গোলদাতা জাকপোকে।

ক্লপের দলের এই হতাশাজনক শুরু জার্মান ফুটবলের প্রতিভা সংকটের দিকটিই নতুন করে সামনে এনেছে। ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারকা তৈরি করে চলেছে, সেখানে জার্মান একাডেমিগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক প্রকার খরা চলছে।

একসময় জার্মানদের ভবিষ্যৎ মনে করা হলেও জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভিৎজ এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। উল্টো একের পর এক চোট মুসিয়ালার ক্যারিয়ারকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, জার্মান ক্লাবগুলো এখন নিজেদের অ্যাকাডেমির খেলোয়াড়দের মূল দলে নিয়মিত সুযোগ দেওয়ার চেয়ে বিদেশি খেলোয়াড় কেনার দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

ফরাসি লিগে ২১ বা তার চেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়রা মোট খেলার সময়ের (প্লেয়িং মিনিটস) প্রায় ১৭ শতাংশ মাঠে থাকেন, যা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০১৭-১৮ মৌসুমে জার্মানির চিত্রটাও প্রায় একই রকম ছিল। সেবার অনূর্ধ্ব-২২ খেলোয়াড়দের খেলার সময় ছিল ১৭.২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৪-২৫ মৌসুমে সেই হার নেমে এসেছে মাত্র ৯.৬ শতাংশে, যা গত ১৭ মৌসুমের মধ্যে সর্বনিম্ন।

জার্মান লিগের প্রধান নির্বাহী মার্ক লেঞ্জও একই কথা বলছেন। তার মতে, ইউরোপের শীর্ষ ১০০টি অ্যাকাডেমির মধ্যে মাত্র ৯টি জার্মান ক্লাবের। তিনি আরও জানান, বিদেশের তুলনায় বুন্দেসলিগায় অ্যাকাডেমির সংখ্যা ‘স্পষ্টতই অনেক কম’।

এই বিষয়গুলো একটি ব্যাপার পরিষ্কার করে দেয়- জার্মান ফুটবলের এই সংকট কেবল একজন কোচের ওপর নির্ভর করছে না। প্রতিভা বিকাশের প্রক্রিয়ায় যদি আমূল পরিবর্তন আনা না হয়, তবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই দুঃসময় চলতেই থাকবে। আর তখন ক্লপ বা অন্য যে কেউই আসুক না কেন, এই ‘মৃতদেহে’ প্রাণ ফেরানো কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না।

সূত্র: গোলডটকম।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন