টেকসই জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এনার্জি ট্রানজিশন কনফারেন্স (ইটকন) ২০২৬। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলন জ্বালানি রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মতবিনিময়ের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
৪ জুন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ব জ্বালানি খাত এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে, শুধু জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ কারণে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎসের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে স্থিতিশীল ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, যা জ্বালানি রূপান্তর কর্মসূচিকে আরও জরুরি ও কৌশলগত করে তুলেছে।
সম্মেলনে মালয়েশিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন, সবুজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির নেতৃত্ব মনে করে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে।
এ সময় মালয়েশিয়া আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড বাস্তবায়নের প্রতিও তার দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ ও জ্বালানি সম্পদ ভাগাভাগির সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে সদস্য দেশগুলো আরও সমন্বিত, দক্ষ ও নিরাপদ উপায়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এক দেশের অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য দেশে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হলে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং বিদ্যুতের অপচয় কমবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থা হবে পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট এবং আন্তঃসংযুক্ত। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।
ইটকন ২০২৬-এর আলোচনায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, জ্বালানি রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশগত প্রয়োজন নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই বাস্তবতায় মালয়েশিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
