সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহম্মেদের বাসায় ঢুকে তার স্বামীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে প্রথমে দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা আদায়ের পর বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে গিয়ে ধরা পড়েন পাঁচজন। পরে গ্রেপ্তার হন আরও একজন।
এ ঘটনায় করা মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১৫ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মুন্সী অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। তবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা হয়নি বলে জানা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ভোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন গুলশান-২ এ শাম্মী আহম্মেদের বাসায় পুলিশের সঙ্গে অভিযান চালান। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ ও জানে আলম অপু আবার বাসায় যান। তারা শাম্মীর স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাকি টাকা প্রস্তুত রাখতে বলে চলে যান।
২৬ জুলাই বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে গেলে পুলিশের হাতে আটক হন আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলাম। পরে জানে আলম অপুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। অন্য তিন প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মামলার এক আসামি কিশোর হওয়ায় তার বিচার হবে শিশু আদালতে।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আবদুর রাজ্জাক জবানবন্দিতে বলেন, টাকার লোভ সামলাতে না পেরে তিনি এ কাজ করেছেন। অন্যদিকে জানে আলম অপু দাবি করেন, বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
মামলার বাদী সিদ্দিক আবু জাফরের আইনজীবী জহুরুল আলম জানিয়েছেন, তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দেওয়ায় তারা সন্তুষ্ট এবং ন্যায়বিচার চান। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে ১০ নভেম্বর। অভিযোগপত্রে নাম থাকা ছয় আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
