ড্রয়ে হতাশ শান্ত

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচটি ড্র করেছে আফগানিস্তান। চতুর্থ ইনিংসে আফগানদের আটকে রাখতে বাংলাদেশকে বল করতে হয়েছে টানা ১৪২ ওভার!

এই অবিশ্বাস্য ড্রয়ের নায়ক ছিলেন সেদিকউল্লাহ আতাল। সাধারণত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত বাঁহাতি এ ব্যাটার গতকাল নিজের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিকে সংযত রেখে খেলেছেন ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার অনন্য এক ইনিংস। টেস্ট ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মতো এই ইনিংসে চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলেই তিনি ১২৬ বল মোকাবিলা করেছিলেন। যদিও শুরুতেই একবার বেঁচে যান তিনি। সামনের দিকে ঝুঁকে খেলার সময় তার ব্যাটের কাছে আসা বলটি অল্পের জন্য স্লিপের কাছাকাছি শর্টলেগে থাকা ফিল্ডারের হাতে জমা পড়েনি।

শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বল মোকাবিলা করে ১১১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন আতাল। ক্রিজে কাটান টানা ৮ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সময়ের হিসাবে এটি রেকর্ড করা সপ্তম দীর্ঘতম ইনিংস। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের হয়ে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। আর দেশটির টেস্ট ইতিহাসে দৈর্ঘ্যের বিচারে এটি তৃতীয় দীর্ঘতম ইনিংস।

আতালের ব্যাটে ভর করেই শেষ পর্যন্ত হার এড়িয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আফগানিস্তান। এতে হতাশ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘হতাশাজনক তো বটেই। তবে আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের পেসাররা বেশ ভালো করছে। আমি আশা করেছিলাম, স্পিনাররাও ম্যাচে প্রভাব ফেলবে। তারা চেষ্টা করেছে, কিন্তু আফগানিস্তান সত্যিই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। ছেলেরা পরবর্তী সিরিজে খেলার জন্য প্রস্তুত।’ লিটন দাসের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘লিটন অসাধারণ খেলেছে। শুধু এই ম্যাচেই নয়, কয়েক বছর ধরেই সে দারুণ পারফর্ম করছে। উইকেটের পেছনে তার কাজও দুর্দান্ত। এই গরমের মধ্যে টানা ১৪০ ওভার উইকেটকিপিং করা সহজ ব্যাপার নয়। এতে তার মানসিক দৃঢ়তা ও অসাধারণ চারিত্রিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। আশা করি, সে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই ক্ষেত্রেই ভালো করে যাবে।’

হাসান মাহমুদের বোলিং নিয়ে শান্ত বলেন, ‘যখনই আমি হাসান মাহমুদের হাতে বল তুলে দিই, সে দলের জন্য নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে দেয়। ইবাদত, তাসকিন ও রানাও একইভাবে অবদান রাখছে। আশা করি, গত কয়েক বছরে তারা যেভাবে পারফর্ম করে এসেছে, ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।’ ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন দাস। ম্যাচটি কতটা কঠিন ছিল—এমন প্রশ্নের উত্তরে লিটন দাস বলেন, ‘ম্যাচটি সত্যিই খুব কঠিন ছিল, কারণ প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। এমন গরমের মধ্যে টানা পাঁচ দিন খেলা ছিল ভীষণ কষ্টকর। এই পরিস্থিতিতে নিজের শক্তি ও সামর্থ্য ধরে রাখার দিকেই আমি মনোযোগ দিয়েছিলাম। আমরা ম্যাচটি জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু ক্রিকেটে কখনো কখনো এমনটাই হয়।’ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন লিটন। এমন প্রত্যাবর্তন কীভাবে সম্ভব হয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নেটে এক সেশন অনুশীলন করার পরই আমি নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করি। উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। প্রথম ইনিংসে আমি সুযোগটা কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ঠিক করেছিলাম, এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করব না।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন