ঢাবির সাবেক হল জিএসের মৃত্যু, কীভাবে টঙ্গী গেলেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিমউদ্দীন হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মনির উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অসুস্থ অবস্থায় অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে রেখে চলে যান। পরে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

মনির কীভাবে টঙ্গী গেলেন, অসুস্থ অবস্থায় তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে এলেন, এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মনির উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও পরিবারের সদস্যরা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। তবে তার শ্যালক মো. শাহাবুদ্দিন রাশেদ জানিয়েছেন, স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাফসা আক্তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘পুলিশের রিকুইজিশন ছাড়া এ বিষয়ে বলা সম্ভব নয়।’

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, মনির উদ্দিন স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। পরিবারের আবেদনের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তার ময়নাতদন্ত করা হয়নি। নিহতের মেয়ে চিকিৎসক হওয়ায় তিনি পরীক্ষা করে স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করার পর মরদেহ নিয়ে যান বলে জানান ওসি।

এদিকে মনির উদ্দিনকে কারা হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তারা কোথা থেকে তাকে নিয়ে এসেছিলেন এবং অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি কোথায় ছিলেন, এসব বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালেও তাকে রেখে যাওয়ার পর ওই দুই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়েই মূল ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। 

মরদেহের সঙ্গে হাতিয়া অটো রাইস মিলের নামে ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা উত্তরা ব্যাংকে দেড় লাখ টাকা জমা দেওয়ার একটি স্লিপ পাওয়া যায়। ওই স্লিপের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ হেফাজতে নেয়। 

মরদেহ শনাক্ত করেন তার শ্যালক মো. শাহাবুদ্দিন রাশেদ। তিনি বলেন, কে বা কারা তার দুলাভাইকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে টঙ্গীর হাসপাতালে এনে রেখে গেছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না।

মনির উদ্দিন (৬৫) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকৈলাশ গ্রামের মৃত শফিউল আলমের ছেলে। তিনি ঢাকার ৩৭৯, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, কলাবাগান রোড, কাঁঠালবাগানে বসবাস করতেন। পাশাপাশি হাতিয়া অটো রাইস মিলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে কানাডার নাগরিক এবং মেয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।

জানা গেছে, মনির উদ্দিন ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিমউদ্দীন হলের নির্বাচনে জাসদ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন। তিনি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী-চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন