তুর্কি পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে জামায়াত আমির

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুরস্কের পার্লামেন্টে অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপি উপস্থিত ছিলেন। 

জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এরই মধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধিদলে ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনাকালে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভূমিকা সম্পর্কে তুর্কি স্পিকারকে অবহিত করেন। 

এছাড়া তিনি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট এবং এই বিশাল মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য তুরস্কের সরকার ও সে দেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের মহামান্য প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি বিশেষ চিঠি স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন।

বৈঠকে দুই বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য তুরস্কের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষাগত, প্রযুক্তিগত, শিল্প-সাহিত্য এবং মানবিক কার্যক্রমের প্রসারের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক (পিপল টু পিপল কন্টাক্ট) আরও জোরদার হবে। পরিশেষে, উভয় পক্ষই বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে আগামী দিনে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন