তদবির ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে চলমান বদলির সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত করতে ভুঁইফোঁড় পত্রিকার আশ্রয় নিয়েছে কিছু অসৎ প্রকৌশলী। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নামসর্বস্ব ও অনিবন্ধিত দুটি অনলাইন পত্রিকায় লটারি প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা আছে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।
এসব প্রতিবেদনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্প্রতি প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নের লটারি পদ্ধতিতে অনিয়ম, গ্রেডিং শিট পরিবর্তন, পূর্বনির্ধারিত পদায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ মূলত কিছু কিছু অসৎ প্রকৌশলীর প্ররোচনায় অনুমাননির্ভর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এসব অভিযোগের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। তদবির ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনুমোদিত নীতিমালার ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। লটারি কার্যক্রমটি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উন্মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো এ লটারি কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত ছিল। এমন একটি প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তোলা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।
লটারির মাধ্যমে পদায়নের পরে কোনো কর্মকর্তা সত্যিকার অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক মানবিকভাবে তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বদলি ও পদায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এ লটারি পদ্ধতি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও অনুসরণ করা হচ্ছে। এমন একটি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সম্পূর্ণ কাল্পনিকভাবে ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ এ বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এমন একটি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী হিসেবে সিনিয়র সাংবাদিক রুস্তম মল্লিকের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কে বা কারা তার নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগ দায়ের করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মনে করে, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উত্থাপন করা প্রয়োজন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণও জরুরি। অনুমাননির্ভর ও প্রমাণহীন অভিযোগ প্রকাশের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অনাকাঙ্ক্ষিত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তকর সংবাদ প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ প্রতিবাদলিপি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় গুরুত্বসহকারে প্রকাশের অনুরোধ করা হলো।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ বহু পুরানো, তাদের মধ্যে অনিয়মের কোনো সুযোগ যাতে না থাকে, বদলি বাণিজ্যের যাতে কোনো সুযোগ না থাকে সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপ হিসেবে প্রকৌশলদের বদলি লটারির মাধ্যমে শুরু করেছি। এখন লটারির মাধ্যমে চলমান বদলির সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত করতে ভুঁইফোঁড় পত্রিকার আশ্রয় নিয়েছে কিছু অসৎ প্রকৌশলী। আমরা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি, এতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।
