তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ, শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিমা শিল্পীরা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ এএম

শরতের আবহে বাজতে শুরু করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আগমনী সুর। শক্তির দেবীকে বরণ করে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। জেলায় এ বছর পূজার সংখ্যা বাড়ায় প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েকগুণ। দিন-রাত এক করে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শেষ মুহূর্তে রংতুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে শক্তির দেবী দুর্গার রূপ; একই সঙ্গে ফুটে উঠছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ।

আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার দিনে শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে আবাহন জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর দিনে দেবী বোধন ও ষষ্ঠীকল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বৃহৎ এই উৎসব। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বৃহৎ এই উৎসবের। এ সময় ঢাক-কাসা আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে প্রতিটি মণ্ডপ। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬২৮টি মণ্ডপে দশভূজা ধারিণী দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৫০টির বেশি। 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেলার নাসিরনগর উপজেলায়। এই উপজেলায় এ বছর ১৪২টি মণ্ডপে পূজা হবে। এ ছাড়া নবীনগর উপজেলায় ১৩২টি, সদর উপজেলায় ৮৫টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৬৪টি, সরাইল উপজেলায় ৫৬টি, কসবা উপজেলায় ৫৬টি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪৬টি, আখাউড়ায় উপজেলায় ২৯টি ও আশুগঞ্জে ১৮টি মণ্ডপে দশভূজাধারীনি দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবেচেয়ে বৃহৎ উৎসবকে ঘিরে সনাতনীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রস্তুতির শেষ সময়ে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ও বাসাবাড়িতে প্যান্ডেলিং, ডেকোরেশন ও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় চলছে। বিশেষ করে সময় বেশি না থাকায় শতাধিক প্রতিমা শিল্পীর ব্যস্ততা এখন দিনজুড়েই।

প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, হাতে সময় খুব কম ষষ্ঠী পূজার আগে প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা পৌছে দিতে হবে। প্রতিমার মাটির কাজ শেষ এখন রংতুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার স্বরূপ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। তবে খড়, বাঁশ, রঙ, এটেল ও দোআঁশ মাটিসহ উপকরণের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। সেই অনুপাতে বাড়েনি প্রতিমার দাম। লাভ-লোকসান যা হোক প্রতিমা তৈরি করে আমরা আনন্দ পাই। 

প্রতিমা শিল্পী ঝন্টু পাল বলেন, ‘এ বছর ১৮টি প্রতিমা তৈরি করছি। সবগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমি, আমার ভাই মন্টু পাল ৫ জন কারিগর নিয়ে দিন-রাত কাজ করে প্রতিমার কাজ শেষ করার পথে রয়েছি। প্রতিমাগুলো এখন রঙ করা হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম অধিক বেড়েছে সে অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়েনি। আমরা বংশ পরম্পরার অংশ হিসেবে প্রতিমা তৈরি করি। এটি আমাদের আনন্দের অংশ। লাভ-লোকসানের চিন্তা করি না।’ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের আয়োজক কমিটির সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা তাদের নিজস্ব ভলেন্টিয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলেছি। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের পাশাপাশি ভলেন্টিয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, বৃহৎ এই উৎসবকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদযাপন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

এ ছাড়া দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন সেজন্য পুলিশের টহল টিম দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে শহরের বেহাল সড়কগুলো সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। 

শাস্ত্রমতে এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে করে আর গমন করবেন নৌকায় করে। নৌকায় গমনের ফলে শস্যশ্যামলা হয়ে উঠবে ধরণী।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন