নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ (৩৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসামি আবু হানিফ ভুক্তভোগী তরুণীর চাচাতো বোনের স্বামী। হানিফ তাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ৯ মাস আগে বিয়ের প্রলোভনে ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলেও হানিফ সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তরুণী জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানানোর পর থেকে হানিফ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। তার ব্যবহৃত স্বর্ণ ও রুপার অলংকারও জোর করে নিয়ে বিক্রি করে দেয় হানিফ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য হানিফ একাধিকবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তিনি সম্মতি না দেওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে হানিফের গ্রামের বাড়িতে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ দেন তরুণী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হানিফ বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় লোকজন তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
তরুণীর দাবি, হানিফ তার অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে তাকে ও তার গর্ভের সন্তানকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। অবশেষে তিনি মঙ্গলবার মোহনগঞ্জ থানায় হানিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে হানিফকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা রেকর্ডভুক্ত করা হলে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, তরুণীর করা ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হানিফকে আজ বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
