আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বিমানবন্দরে নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত মার্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহেই পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশন শুরু করবেন ক্রিস্টেনসেন। আগামী দুই দিন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে পরিচয়পত্র পেশের প্রস্তুতি নেবেন। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন।
গত ৯ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। ডিসেম্বরে সিনেট তার মনোনয়ন অনুমোদন করে। সিনেটের অনুমোদন পেয়ে ক্রিস্টেনসেন লিংকডইনে এক পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সিনেট শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে এবং বাণিজ্য বাধা কমিয়ে সম্পর্ক জোরদার করবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন পররাষ্ট্র সেবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিস কাউন্সেলের সদস্য। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা ছিলেন। তার অন্যান্য কর্মস্থলের মধ্যে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটি উল্লেখযোগ্য। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
পিটার হাসের পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ দীর্ঘদিন শূন্য ছিল। গত বছরের জুলাইয়ে হাস ঢাকা ত্যাগ করার পর থেকে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এ বিষয়টি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সাথে জড়িত। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় নানা বৈঠকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল ও সামরিক নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করবেন। তিনি মূলত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



