জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ‘নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক নীতি-সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট) ও উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একজন ব্যক্তি তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করলে তার আশপাশে থাকা অন্তত ১০ জন মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই তাবিনাজের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারাসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-কে কোন প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই যেন আইনে রূপান্তর করা হয়, তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। সাম্প্রতিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, তামাক কোম্পানি নানা কূট-কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালায়। ই-সিগারেট তাদের মধ্যে অন্যতম। এটি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই ই-সিগারেট নিষিদ্ধকরণ ও পণ্য প্রদর্শন বন্ধের ধারা বহাল রেখে যেন অধ্যাদেশটি পাস হয়, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু বলেন, তামাকের কারণে নারীরা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ, গণপরিবহনে ৩৮ শতাংশ এবং বাড়িতে ৩৭ শতাংশ নারী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। গর্ভাবস্থায় তামাক সেবন বা পরোক্ষ ধূমপান গর্ভস্থ সন্তানের অপরিণত জন্ম বা কম ওজনের ঝুঁকির প্রধান কারণ।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম. এ. সোবহান বলেন, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের তামাক ব্যবহারে প্রলুব্ধ করে এবং এই ক্ষতিকর পণ্য ব্যবহার বিশেষভাবে উৎসাহিত করে। অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা হলে তা যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নীতি সংলাপে নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই অধ্যাদেশটি অপরিবর্তিতভাবে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে পাস করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
