পূর্বাচলে শুরু ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০২৬, অংশ নিচ্ছে ২০টির বেশি দেশের ৪০০ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০২৬’। রবিবার সকাল ১০টায় এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজন আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। একই ভেন্যুতে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এশিয়া ল্যাব এক্সপো-২০২৬’, যেখানে ল্যাবরেটরি ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের এক্সপোতে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শনের মাধ্যমে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের নতুন দিগন্ত তুলে ধরছে। এতে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে পারছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রদর্শনীতে ফার্মাসিউটিক্যাল প্রসেসিং ও প্যাকেজিং প্রযুক্তি, এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) ও এক্সিপিয়েন্টস, অ্যানালিটিক্যাল ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি, ক্লিনরুম ও এইচভিএসি সিস্টেম, পানি পরিশোধন ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি এবং টার্নকি প্রজেক্ট সেবাসহ বিভিন্ন আধুনিক সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মুক্তাদির, যিনি বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং ইন্সেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে আরও গতিশীল করবে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বৈদেশিক সহযোগিতা বাড়বে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধের সময় তিনি মায়ের কাছে অনুমতি চেয়ে বলেছিলেন, আমরা যদি না যাই, তবে দেশ স্বাধীন করবে কে? সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বর্তমান প্রজন্মকে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও যদি আমরা শুধু ভবিষ্যতের কথা বলি কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তবে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। উপস্থিত শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যারা উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে রাষ্ট্র শক্তিশালী না হলে এই অগ্রগতির সুফল টেকসই হবে না। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সবাইকে একসাথে কাজ করলেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন