দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের মাঠ থেকে আগামী দিনের তারকা খুঁজে আনার মহাযজ্ঞ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর শুরু হচ্ছে ৫ নভেম্বর। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে কার্যক্রমের খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। জানিয়েছেন, আসরে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ শিশু-কিশোর।
সংখ্যাটি শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং তৃণমূলের ক্রীড়াঙ্গনে জেগে ওঠা এক নীরব জোয়ারের দলিল। মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিতদের মধ্যে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩ জন ছেলে, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৫৮.২ শতাংশ। মেয়ের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৫, অর্থাৎ ৪১.৮ শতাংশ।
আসরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিভা অন্বেষণ শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে। অর্থাৎ যে কিশোর শহরের নামি ক্লাব বা একাডেমির নাগালে নেই, তার জন্যও মঞ্চ প্রস্তুত। ইউনিয়নের প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীরা ক্রমান্বয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে লড়বে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রতিটি ধাপে বাছাই হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। চার ধাপের এই ছাঁকনিতে টিকে যাওয়া খেলোয়াড়ই শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবে চূড়ান্ত স্বীকৃতির দোরগোড়ায়।
পরিসর বেড়েছে খেলার তালিকায়ও। প্রথম আসরে ছিল ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও মার্শাল আর্ট। এবার যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ইভেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। যে শিশুর পায়ে ফুটবল নেই, হাতে ব্যাট নেই, তার জন্যও এখন খুলে গেছে নিজেকে চেনার নতুন সুযোগ।
নতুন কুঁড়ির আসল শক্তি লুকিয়ে আছে মাঠের বাইরের প্রতিশ্রুতিতে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘এটি মাঠের সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রতিভাবান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন গড়ার অনন্য মাধ্যম। প্রথম আসরের দেশব্যাপী বাছাইয়ে উঠে আসা সেরা ৪০ জনকে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ভর্তি করানো হবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)।’ তাদের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় বহন করছে রাষ্ট্র। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘কোনো প্রতিভা হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার, যা আগামীর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
এখানে একটি হিসাব চোখে পড়ার মতো। প্রথম আসরে নির্বাচিত ৪০ জনের এই যাত্রা বিকেএসপির ফটকে পৌঁছেছে। এবারের নিবন্ধিত ১৬ লাখের বেশি প্রতিযোগীর বিপরীতে দেশের শীর্ষ ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের আসন সীমিত। সেই বিবেচনায় এই বাছাই যেন সূঁচের ফোড়ে উট গলানোর মতোই কঠিন। লাখো শিশুর অংশগ্রহণ নিজেই একটি বড় অর্জন, কারণ এর মধ্য দিয়ে খেলাধুলা পৌঁছে যাচ্ছে সেইসব ঘরে, যেখানে এতদিন ক্রীড়াঙ্গন ছিল শুধু দর্শকের গ্যালারি।
প্রতিমন্ত্রীর কথায়, ‘ক্রীড়াবান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্য তরুণদের মাঠমুখী করা। প্রথম আসরের সাফল্যের পর দ্বিতীয় আসর ঘিরে শিশু-কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা, যার প্রমাণ নিবন্ধনের এই বিপুল সংখ্যা।’
