সরকার দেশের প্রতিরক্ষা যন্ত্রপাতি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা) একটি জমি বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, এখন দেশেই প্রতিরক্ষা যন্ত্রপাতি উৎপাদনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ডিফেন্স ব্যয় কমবে। লোকাল একটি ভ্যালু অ্যাডিশন হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল আমরা দেখলাম যে ডিফেন্স জোন করার কথা বলা হচ্ছে, এর আগে দেখেছি পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনা হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের তো একটি ডিফেন্স ব্যবস্থা আছে, তাই না? আমাদের নৌবাহিনী আছে, বিমান বাহিনী আছে, আর্মি আছে এবং আমরা তো তাদের ডিফেন্স সরঞ্জাম কিনি। আমরা তো প্রতিনিয়ত কিনছি। তো এখানে কোনো পার্থক্য নেই।
এখানে পার্থক্যটা হচ্ছে যে উৎপাদন হবে, এইজন্যই একটি জমি বরাদ্দ করা হয়েছে-অন্য কিছুই না। এখন এটা কি পাকিস্তান থেকে আসবে, নাকি তুরস্ক থেকে আসবে, নাকি অন্য কোথাও থেকে আসবে-এরকম কোনো সুনির্দিষ্ট কিছু হয়নি।
তিনি বলেন, গতকাল যেটা হয়েছে আমি নিজে ওই সভায় ছিলাম। যেটা হয়েছে, বেজা-বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি-তারা শুধুমাত্র একটি ল্যান্ড অ্যালোকেট করেছে ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট উৎপাদনের জন্য।
দেড় বছর ধরে জ্বালানি নিয়ে সংকটে ছিলেন-এই বিষয়ে আমরা চীন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যুদ্ধবিমানসহ অনেক ব্যয়ের উদ্যোগ দেখেছি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ হচ্ছে, এটা বরং ডিফেন্স ব্যয় কমাবে। লোকাল একটি ভ্যালু অ্যাডিশন হবে।
চীন থেকে যুদ্ধবিমান ও তুরস্ক থেকে ড্রোন কেনা হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, না, এগুলো কোনো স্পেসিফিক কিছু হয়নি। শুধুমাত্র আমি যেটুকু জানি, সেটুকু বলব।
আমি যেটা জানি না, সেটা সম্পর্কে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। বেজার ওই মিটিংয়ে ছিলাম, সেখানে শুধুমাত্র একটি জমি অ্যালোকেট করা হয়েছে-ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট উৎপাদন হবে, এটাই।
নির্বাচনকে সামনে রেখে কি র্যাবের জন্য সরাসরি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, না, এটা নির্বাচনের জন্য নয়। নিয়মিতভাবে তিন ধরনের গাড়ি কেনা হবে। আজকে আমরা শুধুমাত্র ক্রয় পদ্ধতিটা অনুমোদন করছি। আগে একটি ওপেন টেন্ডার বাধ্যতামূলক ছিল, এখন এটা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সরাসরি কেনা হবে। এই গাড়ি তো নির্বাচনের মধ্যে আসবে না। আর কত টাকা, এখন বলা যাবে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
অন্তর্বর্তী সরকার এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে-যে সরকার ঋণ নিয়ে চলছে, সে সরকার মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট কীভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো এই বিষয়ে কিছু দেখিনি। এটা কোথা থেকে আসছে, আমি বুঝতে পারলাম না। আপনাদের যে বিষয়টি পারচেজ কমিটিতে আসে, তো এরকম তো কোনো কিছু দেখিনি। এত বড় একটি অর্থব্যয়ের প্রস্তাব হলে তা পারচেজ কমিটিতে আসতে হবে। আমি তো প্রত্যেকটি পারচেজ কমিটিতে ছিলাম। আমার তো মনে পড়ে না।
গণভোট হচ্ছে, সে জন্য খরচ কিছুটা বেশি হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য স্পেসিফিকভাবে সরকার কত টাকা বরাদ্দ করেছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমি ঠিক বলতে পারব না। ক্যাম্পেইন করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা তথ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম কথা হচ্ছে, বেশিরভাগ ব্যয় করা হচ্ছে সরকারের নিজস্ব বাজেট থেকে। কিছু স্পেশাল অ্যালোকেশন আছে-সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কিংবা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু বিশেষ বরাদ্দ থাকতে পারে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
লাস্ট ক্রিকেট নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের যে বর্তমান অবস্থা চলছে-আপনারা একসময় বলেছিলেন যে এটা আসলে বড় স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করবে না বা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করবে না-এখন দেখছি সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে-এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকার তো স্পষ্ট করে বলেনি যে আমরা খেলব না। আমরা তো বলেছি, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আমরা অংশ নিতে আগ্রহী। আমি বলেছি, আমাদের অন্য কোনো ভেন্যু দাও। ভারত তো কত বছর পাকিস্তানে গিয়ে খেলেনি। তারা তো বিভিন্ন দেশে খেলে নাই-তাদেরকে অল্টারনেটিভ দেওয়া হয়েছে। আমরা তো এমন কিছু চাইনি, যা আজগুবি।
ক্রিকেট নিয়ে কোনো টানাপোড়েন হচ্ছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না না, টানাপোড়েন হচ্ছে না-এটা আমি বলব না। কিন্তু আমরা নীতিগত একটি প্রিন্সিপাল স্ট্যান্ড নিয়েছি। আপনারা জানেন, মুস্তাফিজকে কেন বাদ দেওয়া হলো। কারণ ওখানকার বিজেপি এবং শিবসেনা তাকে বাদ দিতে বলেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে খেলা থেকে বাদ দেওয়া হলো। খেলোয়াড়ের নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
