আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন। বাড়ির নকশায় থাকছে বহির্বিশ্বের প্রধানমন্ত্রীদের বাড়ির আধুনিক ডিজাইন। সব সেফটি ও সিকিউরিটি মেনে বাসভবনের মাটির নিচে থাকবে অত্যাধুনিক বাংকার এবং সুড়ঙ্গ বা টানেল, যা বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে সুরক্ষা দেবে-এমনটাই পরিকল্পনা গণপূর্ত বিভাগের।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নিজস্ব বাসভবন গুলশান-২ থেকেই দৈনন্দিন অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যমুনা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সেখানে ওঠার কথা ছিল নতুন প্রধানমন্ত্রীর। তবে এটাকে আপাতত প্রধানমন্ত্রী নিজের বাসভবন হিসেবে দেখছেন না, তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য এ বাসভবন ব্যবহার করবেন।
সূত্র জানায়, নতুন বাসভবনটি করা হবে এমন স্থানে, যেখান থেকে সরকারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, সংসদ ভবন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ সুবিধাজনকভাবে করা যায়-এমন স্থানকেই বাসভবন নির্মাণের জন্য বেছে নিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য হেয়ার রোড, মিন্টো রোড অথবা বেইলী রোড-এ এলাকাগুলোতে জায়গা দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সচিবালয়ের সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগে যেন অসুবিধা না হয়, সেটাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জায়গা নির্বাচন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা জায়গা নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়কে জানাবে। পরবর্তী সময়ে এটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন মন্ত্রী।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওঠার বিষয়ে আমাদের বলা হয়েছিল। আমরা যমুনা প্রস্তুত করেছি। তবে প্রধানমন্ত্রী এখন সেখানে উঠছেন না। প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের জন্য স্থায়ী ভবন তৈরির বিষয়ে আমাদের বলা হয়েছে। আমরা জায়গা নির্বাচন নিয়ে কাজ করছি। এটা হেয়ার রোড, মিন্টো রোড অথবা বেইলী রোডে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানান এ কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাসভবনের জন্য আমরা হেড অব আর্কিটেক্টের সঙ্গে আলোচনা করছি। এর মূল সামারি আমরা মন্ত্রণালয়ে জমা দেব।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আমরা জায়গা দেখছি। সচিবালয়কেন্দ্রিক যাতায়াত যাতে সহজভাবে করা যায়, এমন জায়গায় তৈরি করা হবে। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড-এসব এলাকার পাঁচ-ছয়টি ভবন অধিগ্রহণ করে বাসভবন তৈরি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির বিষয়ে উল্লেখ করে প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী আরো বলেন, বহির্বিশ্বের প্রধানমন্ত্রীদের বাসভবনের সব সুযোগ-সুবিধা ও ডিজাইন ফলো করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সেফটির জন্য বাসভবনে মাটির নিচে বাংকার এবং টানেল তৈরি করা হবে, যাতে বোমা হামলা থেকে নিরাপদে থাকা যায়। সর্বোচ্চ সিকিউরিটি মেনে বাসভবন তৈরি করা হবে।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অনুবিভাগ) মো. আব্দুল মতিন বলেন, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য তো স্থায়ী বাসভবন দরকার। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট গণভবন তো এখন ব্যবহারের সুযোগ নেই, ওটা এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে। আমাদের বর্তমান যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন আছে, এটা মূলত প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যবহার করবেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের মন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড কিংবা বেইলী রোড-এ এলাকাগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য জায়গা নির্বাচন করা হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ মিন্টো রোড বা হেয়ার রোড। এটা নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের সময় নিয়ে এটা তৈরির কথা বলা হয়েছে। সচিবালয়কেন্দ্রিক আসা-যাওয়া যেন সহজ হয়, এমন লোকেশনে জায়গা নির্বাচনের জন্য পিডব্লিউডির চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে বলা হয়েছে। তারা এটা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান সরকারের এ অতিরিক্ত সচিব।
