বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাতে ইইউ প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জারিনা এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা আবু সাইদ বেলাল উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, শ্রম আইন, ইইউয়ের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুব বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, জাতীয় সংসদের কার্যক্রম এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে ইইউ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো হলো মিনি পার্লামেন্ট। এসব কমিটির মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ সংসদ তথা জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি করে থাকে। কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর, টেকসই ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, শ্রম আইন ও শ্রমিকদের কল্যাণ, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সভাপতি তৈরি পোশাক খাতে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, শিশু শ্রম বন্ধ এবং শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকার মিড-ডে মিল, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য আরও উন্নত ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউএবল এনার্জির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সাক্ষাৎকালে ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
