বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক বলেছেন, গত ১১ বছরে দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা থাকলেও একটি পে-স্কেলও কার্যকর হয়নি। অথচ দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত না করলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
শনিবার (১৬ মে) নবম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত মৌন মিছিল ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে কিন্তু বেতনকাঠামোয় কোনো কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক চাপে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
সমিতির সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম জানান, বর্তমান বেতনে একটি পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করতে গিয়ে কর্মচারীরা মানবিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছেন, যা রাষ্ট্রীয় চাকরির মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বক্তারা আরও জানান, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ১১ জুন ঘোষিত জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের বরাদ্দ না রাখা হলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহাবুদ্দিন মুন্সী, মো. শাহীন খান, এম এ আব্দুল বাতেন, মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. আজিজুর রহমান, খুলনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক সোহানা মির্জা, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক মো. হাফিজ আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সাব্বির, মো. সোহেল রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খাইরুন নাহার লিপি ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
