চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলার বাদীসহ মোট নয়জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। প্রথমে শিশুটির পিতা ও মামলার বাদী মেহেদী হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।এর আগে গত ৪ জুন মামলার অভিযোগপত্র আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় দাখিল করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার অভিযুক্ত মনির হোসেন (৩০) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশু ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আসামিকে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। একই সঙ্গে পুলিশবাহী কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
থানায় সোপর্দের পর অভিযুক্ত মনির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশের দাবি, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
