নারায়ণগঞ্জের পালপাড়া থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর শিশির কুমার বীর (১৯) নামে এক তরুণের মরদেহ ধলেশ্বরী নদী থেকে উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরমুক্তারপুর এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশির নারায়ণগঞ্জ শহরের পালপাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবা প্রয়াত বিপ্লব বীর। শিশির ২০২৫ সালে সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাসা থেকে বের হন শিশির। পরদিন সকালে বিষয়টি জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। তার ব্যবহৃত মোবাইল বাসায় ছিল।
পরিবারের দাবি, বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শিশির। স্থানীয়রা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে মুক্তারপুর নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মেট্রো সিমেন্ট কারখানা থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে নদীতে মরদেহটি পাওয়া যায়।
শিশিরের বড় বোন শুভ্রা বীর বলেন, ‘ভাই বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি। আমরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছিলাম। আমাদের ধারণা, তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, এরকম ঘটনা শুনলে আমরা হতভম্ব হয়েছি, এখন আসলে কিছু বলতে বা বুঝিয়ে বলতে পারছি না। খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জের দিকে যাচ্ছি। পরে কথা হবে।
মুক্তারপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. আব্দুল মাবুদ বলেন, নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে মর্গের সামনে রয়েছে। আমরা পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান।
তিনি বলেন, মুক্তারপুর নৌপুলিশের কাছ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। মরদহের পকেট থেকে এন আইডি কার্ড পাওয়া যায়, সেই এনআইডি কার্ড নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ঠিকানা ছিল। মুক্তারপুর থেকে আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় এনআইডি কার্ড অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধারের খবরটি যেন আমরা পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ে আমরা সে খবরটি পৌঁছে দিয়েছিলাম। তার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জে চলে গেছেন।
তিনি আরও জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি ছেলেটি রাগ-অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। বাসায় মোবাইল রেখে অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়।
