দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও বিপ্লবের সুফল বিএনপি ভোগ করে, পরে দলটি আবার আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার মতে, বিএনপি হচ্ছে একটা ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’।
এনসিপির নেতা বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার পেছনে আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রবণতা কাজ করেছে। ব্যক্তির মধ্যে ‘হাসিনাপনা’ থাকলে তিনি যে দলেরই হোন, আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য ধারণ করবেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সবসময় বিপ্লবে জনগণের অংশগ্রহণের যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে, বিপ্লবগুলো হয়, সবগুলোর সুবিধা বিএনপি নেয়। নেওয়ার পরে বিএনপি আবার আওয়ামী লীগ হতে চায়। আওয়ামী লীগ তো একটা খাসিলত, একটা চরিত্র বা কিছু বৈশিষ্ট্যের বিষয়। আপনি যে দলই করেন না কেন, পেছনে যে দলের ব্যানারই লাগান না কেন, আপনার মধ্যে সেই বৈশিষ্ট্য থাকলে আপনি আওয়ামী লীগ হয়ে যাবেন। আপনি টি-শার্ট বা বিএনপির জার্সি গায়ে লাগালেন, কিংবা এনসিপির জার্সি গায়ে লাগালেন, কিন্তু আপনার নিজের মধ্যে হাসিনাপনা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো আপনার জার্সি বা পোশাক বিএনপির, কিন্তু আপনার নিজের মধ্যে আওয়ামী লীগের খাসিলত থাকবে। আওয়ামী লীগকে পথ দেখিয়েছে বিএনপি। ৯০ সালে, ৯৬ সালে এবং আবার ২০০৬ সালে পথ দেখিয়েছে। বিএনপি হচ্ছে একটা ফেইলড আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটা সফল আওয়ামী লীগ।’
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনা করে এনসিপির এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রজেক্টগুলো বিএনপি করতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ যা করতে চেয়েছে, তা করে সফল হয়েছে। এগুলো বিএনপি করতে চেয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করতে চেয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে।’
বিএনপির রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এখন নিয়ত বা নাফসানিয়তের জায়গাটিতে বিএনপির মধ্যে আমরা কোনো ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু জাতির প্রয়োজনে, সামগ্রিক প্রয়োজনে একটি জাতি এতবার রক্ত দিতে পারে না, এত কম সময়ের মধ্যে এত রক্তপাত সহ্য করতে পারে না। আমরা মাঝে মাঝে বলি, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত। একটি জাতি কয়বার রক্ত দেবে বলেন? প্রত্যেকটি প্রজন্ম কি রক্ত দেবে? ৯০-এর প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, এই প্রজন্মও রক্ত দিয়েছে। তাহলে প্রত্যেকটি প্রজন্ম যদি রক্ত দেয়, একটি রাষ্ট্র বা জাতি হিসেবে আমরা তো গড়ে উঠতেই পারব না।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা আর কত রক্ত দেব? কতবার রক্ত দেব? তার মানে কি এই দেশের প্রত্যেকটি প্রজন্ম শেষ হবে, আরেকটি প্রজন্ম আসবে, সে আবার রক্ত দেবে। সে আবার একটি ঐতিহাসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাবে, নিজের পরিচয় খুঁজবে, নিজের জায়গা খুঁজবে।’
প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরিচয় সংকটে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এভাবে কত বছর পরিচয় খুঁজবে? খুঁজতে খুঁজতে একটি প্রজন্ম আবার শেষ হয়ে যাবে। নতুন একটি প্রজন্ম আসবে, সে আবার নিজের পরিচয় সংকটে ভুগবে। নিজের পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করবে। পুরো বিশ্বের মধ্যে নিজের পরিচয় কোথায়, সেটি খুঁজতে খুঁজতেই তার প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে।’
