চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মো. রাফসান (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আটদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে মারা যান তিনি।
নিহত রাফসান উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার মৃত নুর আলমের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এ বছরই রাফসানের বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। অনেক স্থানে বিয়ের জন্য পাত্রীও দেখেছেন পরিবার। নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর এই তরুণের ঘরে বিয়ের আনন্দের বদলে এখন নেমে এসেছে শোকের মাতম। তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতে আসলে পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
নিহতের চাচা সাংবাদিক সাইদুল হক জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন রাফসান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও রক্ষা করা যায়নি তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এতে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একজন মায়ের বুকের ধন, স্বজন ও ভাইবোনদের আশার প্রদীপ নিভে গেছে বলে জানিয়েছে আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
তথ্যসূত্র বলছে, সীতাকুণ্ডে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত জুলাই মাসে এ রোগী ৩৩ জন হলেও পরবর্তী আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। চলতি মাসে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন নিয়েছেন। হাসপাতালে আসা ডেঙ্গু রোগীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, জুনের পর থেকে হাসপাতালে ডেংঙ্গু রোগী বেড়েছে। সরকারিভাবে এ রোগের এনএস ওয়ান ফ্রি করা হয়। তবে আইসিডি পরীক্ষা ফ্রি একশ টাকা রোগীকে বহন করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, যে সব ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যায় তার পরিসংখ্যা চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসে সংরক্ষণ রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ১২ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
