দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বোলার হান্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান রবি। প্রায় আট বছর পর আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় বোলারদের খুঁজে বের করার এই আয়োজন। এবারই প্রথম ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে এত দীর্ঘ বিরতির জন্য বোর্ডেরও দায় রয়েছে বলে মনে করেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল। গতকাল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
২০০৭ সালে প্রথমবার গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় পেসার হান্ট করেছিল বিসিবি। সেখান থেকে উঠে এসে লম্বা সময় জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন রুবেল হোসেন। এর পর ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একটি করে পেসার ও স্পিনার হান্ট আয়োজন করেছিল বিসিবি। সেসব আয়োজনেও সহযোগী হিসেবে ছিল রবি। তখন পেস বোলিংয়ে ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদের মতো প্রতিভাবানদের খুঁজে পেয়েছিল বিসিবি, যারা বর্তমানে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলার। শুধু তাই নয়, স্পিন হান্ট থেকেও উঠে এসেছিলেন রিশাদ হোসেন, নাঈম আহমেদের মতো অনেকেই। জাতীয় দলের পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেও লেগ স্পিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন রিশাদ। অথচ এরপর আর সেভাবে দৃশ্যমান কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। দীর্ঘ বিরতির বিষয়টি নিয়ে এবার বোর্ডকেই দায়ী করেছেন নতুন প্রেসিডেন্ট তামিম। তার ভাষায়, ‘গত সাত-আট বছর ধরে কমবেশি আট বছর এই প্রোগ্রামটি হয়নি। সাত-আট বছরের এই বিরতি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো হয়নি। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যর্থতা বলেই আমি মনে করি।’
বোলার হান্ট থেকে উঠে আসা প্রতিভাদের নিয়েও এবার বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তামিম। অতীতে কয়েকটি ক্যাম্প ও দু-একটি বিদেশ সফরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বোলার হান্টের কার্যক্রম। তবে এবার সেই ধারার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায় বিসিবি। তামিম বলেন, ‘এবার আমরা শুধু একটি সাধারণ ক্যাম্প আয়োজন করতে চাই না। বিসিবির পক্ষ থেকে দুজন কোচ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে দিতে চাই না। যারা সবচেয়ে ভালো কোচ হিসেবে পাওয়া যাবে এবং এই প্রোগ্রামের সঙ্গে কাজ করার জন্য সময় দিতে পারবেন, তাদের যুক্ত করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি জাতীয় দলের যেসব তারকা ক্রিকেটার আমাদের সঙ্গে আছেন, তারাও যখনই সময় পাবেন, এই ক্যাম্পে আসবেন। হয়তো আধাঘণ্টার জন্য, হয়তো এক ঘণ্টার জন্য—তবুও তারা আসবেন। তরুণদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন।’ একই সঙ্গে বোলার হান্টের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা রবির অবদানের কথাও তুলে ধরেন তামিম। তিনি বলেন, ‘রবি তখন প্রচলিত ধারার সঙ্গে যায়নি। বরং প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। এ কারণেই আমি মনে করি, বাংলাদেশ ক্রিকেটে এবং বিশেষ করে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপ্লবে রবির অবদান অনেক বেশি। আমি সবসময় মনে করি, রবি শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্পন্সর নয়, রবি বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই একটি অংশ।’
