পদকের সামান্য সম্ভাবনা হাতেগোনা যে দু-এক ইভেন্টে, তার অন্যতম নারী ক্রিকেট। আগামীকাল রোববার ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জিতলে পদক নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। পদকের রংটা কী হবে—এ নিয়েই বাকি থাকবে কৌতূহল। হারলেও সম্ভাবনা থাকবে, সে ক্ষেত্রে জিততে হবে স্থান নির্ধারণী লড়াই।
এই সমীকরণের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কেবল ভারত নয়, ইতিহাসও! ক্রিকইনফোর তথ্য বলছে, ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ-ভারত নারী ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ২৪ ম্যাচ খেলেছে। ভারত জিতেছে ২১ ম্যাচ, মাত্র ৩ জয় বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সর্বশেষ ভারতকে হারিয়েছিল ২০২৩ সালে। পরের ৯ ম্যাচ টানা জিতেছে ভারত। সংখ্যাটা ১০-এ উন্নীত করার পাশাপাশি পদক নিশ্চিত করার মিশনে নামবে ভারত। আগামীকাল রোববার নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশ কোচ সারোয়ার ইমরান বলেছেন, ‘ফিল্ডিং ছাড়াও টুকিটাকি সমস্যা ছিল। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। যে ভেন্যুতে খেলা হবে, তার আউটফিল্ড মন্থর। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েই এই ম্যাচ খেলতে নামছি।’
ভারত যে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ৯ ম্যাচ জিতেছে, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল এশিয়ান গেমস দিয়েই। চীনের হাংঝু আসরের সেমিফাইনালে লাল-সবুজদের ৫১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে দলটি ম্যাচ জিতেছিল ৮ উইকেটে। পরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বর্ণপদকও জিতেছিল ভারত। কাকতালীয় ঘটনা হলো, আইচি-নাগোয়া আসরের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনাল লাইনআপ হুবহু সেই হাংঝু আসরের শীর্ষ চারেরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।
ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জাপানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়—শ্রী চরাণির বোলিং তোপে জাপান মাত্র ৫৭ রানে গুটিয়ে যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের যাত্রাটা একেবারেই ভিন্ন পথে। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় আইসিসি র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে তারা সরাসরি সেমিফাইনালে চলে আসে। ফলে আসরে এখনও ব্যাট-বলের লড়াইটাই শুরু হয়নি বাংলাদেশের।
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। যেখানে হারমানপ্রীতের দল ৪০ রানের ব্যবধানে সহজ জয় তুলে নেয়। ফলে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েও বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে থেকেই মাঠে নামছে। কিন্তু লড়াইটার নাম ক্রিকেট, যাকে বলা হয় হয় ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’। এই দ্বৈরথে বাড়তি নজর থাকবে ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্ধানার দিকে। নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সুজি বেটসকে ছুঁয়ে ফেলতে তার প্রয়োজন এখন মাত্র ৯ রান। অর্থাৎ এই সেমিফাইনালেই রেকর্ডবুকে নতুন নাম লেখা হয়ে যেতে পারে, যদি মন্ধানা তার চেনা ছন্দে ব্যাট চালাতে পারেন।
অতীত পরিসংখ্যান, মুখোমুখি লড়াইয়ের রেকর্ড এবং দলীয় সমন্বয়ের দিক থেকে ভারত পরিষ্কার ফেভারিট। কিন্তু নকআউট ক্রিকেটে চাপের মুহূর্ত সব হিসাব উল্টে দেবে না—সেই নিশ্চয়তা কোথায়! বাংলাদেশ জানে, একটি ভালো দিনই যথেষ্ট পুরোনো সব পরিসংখ্যানকে ভুল প্রমাণ করে দেওয়ার জন্য।
চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ যে অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে, আজ সেটাই হতে পারে অস্বস্তি। প্রকৃতির বৈরী আচরণের ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হলে আইসিসি র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে ফাইনাল নিশ্চিত হবে ভারতের। বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে গেল আসর থেকে জেতা ব্রোঞ্জ পদক ধরে রাখার জন্য স্থান নির্ধারণী ম্যাচের দিকে।
