প্রথম পর্যায়ে আজ ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট নেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল, যেখানে সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের পর এটাই রাজ্যটির প্রথম ভোট। খবর বিবিসি।
প্রথম পর্যায়ে আজ ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট নেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল, যেখানে সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হবে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং, কুচবিহার, আলিপুর এবং কালিম্পঙে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এ দফায় মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১৬৭ জন নারী প্রার্থী। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কমিশন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রথম দফার ভোটে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের দুই জেলায়। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে সরাসরি ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ভারতীয় সময় সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও তার আগে ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোয় ‘মক পোল’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোটযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করছে কি-না তা পরীক্ষা করা হয়। এরপর যন্ত্র সিল করে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়। প্রথম দফার ভোটে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম আসন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগের নির্বাচনে তিনি এই আসনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করেছিলেন। তবে এবারে মমতা ব্যানার্জী নন্দীগ্রামে লড়ছেন না। কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীও প্রার্থী হয়েছেন।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুর আসনে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘদিন পর তিনি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। একই জেলার রেজিনগর ও সুতি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হুমায়ুন কবীর, যিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল গঠন করেছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও মন্ত্রী মানস ভুঁইঞাও প্রার্থী হয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের কুচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা আসনে প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, আর দিনহাটা আসনে লড়ছেন রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ। এছাড়া শিলিগুড়ির মেয়র ও প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের এলাকায় ভোটগ্রহণ চলছে। প্রথম দফার ১৫২টি আসন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসন রয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ অঞ্চলের আসনগুলো থেকেই বিজেপির উত্থান লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এ ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৯৩টি আসনে জয়ী হয় এবং বিজেপি পায় ৫৯টি আসন। ফলে এবারের নির্বাচনে এ অঞ্চলগুলো উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে পাশাপাশি আজ নির্বাচন হচ্ছে তামিলনাড়ুতে। সেখানকার ২৩৪ আসন নিয়ে চলছে ত্রিমুখী লড়াই। ডিএমকে, এআইএডিএমকের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে এবার রয়েছে অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ বিজয়ের তামিলাগা ভেটরি কাঝাগাম (টিভিকে)।
