বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্যের সময়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি একটি সমন্বিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছে। ‘দ্য পিপলস প্ল্যাটফর্ম’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সালে নিজস্ব প্রযুক্তি, কনটেন্ট ও ডিজিটাল সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশীয় প্ল্যাটফর্ম ‘হোপনিটি’। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামের তরুণ রায়হান সরকারের হাত ধরে একক উদ্যোগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তৃতি লাভ করছে।
হোপনিটি কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বরং যোগাযোগ, ই-কমার্স ও কনটেন্ট নির্মাতাদের এক ছাতার নিচে আনতে হোপচ্যাট ও হোপি শপসহ সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে। প্ল্যাটফর্মটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও ওয়েব মিলিয়ে সাত লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী এতে যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন এবং সম্প্রতি প্রি-সিডের পর সিড পর্যায়ের নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করে বিনিয়োগ অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উদ্যোক্তা রায়হান সরকার জানান, শুধু বিনোদন নয়, প্রযুক্তিকে মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান ও সামাজিক কল্যাণে কাজে লাগানোই তাদের মূল লক্ষ্য। প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় আধুনিক দ্বি-স্তরীয় যাচাইকরণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং এটি রক্তদান, খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তার মতো নানা সামাজিক উদ্যোগে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় প্ল্যাটফর্ম সফল হলে বিদেশি মাধ্যমে বিলিয়ন ডলার পাচার রোধ হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।
আন্তর্জাতিক টেক জায়ান্টদের সাথে প্রতিযোগিতা, নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারকারী আস্থা এবং টেকসই ব্যবসায়িক কাঠামো টিকিয়ে রাখাই এখন হোপনিটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মতলবের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
