মাটি ও ফসলে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতানুগতিকভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করা ও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোছা. সাবিরা সুলতানা, মো. গোলাম রছুল ও মো. আব্দুল বারী সরদার অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সভাপতির আমন্ত্রণে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে, কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে।’
এ সময় মন্ত্রী আদা, মরিচ, টমেটো, পেয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও রপ্তানিমুখী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। সারের ডিলার নিয়োগে অত্যন্ত স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬ জারি করা হয়েছে।
সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং ব্যবস্থা অধিকতর জোরদারকরণ ও কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র এবং মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পাহাড় এবং সমতল এলাকাসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন, চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু, বাদাম চাষ, কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ কাজে লাগানো, কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো, কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করার বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সভাপতি বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর সরকারের অনেক সফলতা নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয় অধিকতর গতিশীল হয়ে কাজ করবে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।’
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর সংস্থাসমূহের জনবল, দপ্তর সংস্থাসমূহের কার্যাবলী ও মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন, কৃষিতে চ্যালেঞ্জ ও মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর সংস্থাসমূহের প্রধান সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
