মাদকবিরোধী সভার চার দিনের মাথায় হামলা: আইসিইউতে যুবদল নেতা নিহত, গ্রেপ্তার ৩

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ এএম

ময়মনসিংহ নগরের কৃষ্টপুর রেলওয়ে কলোনিতে মাদকবিরোধী সভা করার চার দিনের মাথায় হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত রাজা মিয়া (৪৫) মারা গেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাজা মিয়া ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। নগরীর বউ বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন—মো. নিশাত (২০), কবীর হোসেন (৩৫) ও মো. বিনু মিয়া (৪৫)।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত রাজা মিয়ার ঘরে ঢুকে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে কানে রড ঢুকিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগও করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাজা মিয়াকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, কৃষ্টপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। রাজা মিয়া মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এরই জেরে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, রাজা মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এতদিন মারধর ও গুরুতর জখমের অভিযোগে তদন্তাধীন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে । এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

ওসি আরও বলেন, হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল, কারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজা মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় কৃষ্টপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে পুলিশ।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন