মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২ কিশোর

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে মো. ফয়েজ আহাম্মদ নামের এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে গ্রেপ্তার দুই কিশোর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।  

গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো- আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবণ (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)। তারা সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা। 

পিবিআই জানায়, তারা একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মব তৈরির মাধ্যমে অরাজকতা চালিয়ে আসছিল।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে পেটানো হয়। পূর্বশত্রুতার জেরে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে তাকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে অভিযুক্ত কিশোর ও তাদের সহযোগীরা। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে। মামলাটি পিবিআইয়ের তপশিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

পিবিআই জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার (০৪ অক্টোবর) ভোরে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে রোববার বিকেল ৩টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দুজনই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। দলটি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং মব সৃজনের মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল। ঘটনার দিন মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের ও সহযোগীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা ফয়েজকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন