মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দেশে-বিদেশে নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ-এর (বায়রা) সদস্যরা।
এ সময় রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থকে বিবেচনায় না নিয়ে দেশ ও কর্মীদের কর্মসংস্থানের স্বার্থে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবিও জানান তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তকরণ, সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ বায়রা সদস্যদের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এইসব কথা বলেন বায়রার নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বায়রার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া।
রিক্রুটিং এজেন্সী মালিকদের শঙ্কা, চলমান ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সময়মতো শ্রমিক পাঠাতে না পারলে মালয়েশিয়া সরকার অন্যান্য সোর্স কান্ট্রি থেকে শ্রমিক নিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ করবে। এতে এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কর্মীদের কোন অভিযোগ নেই। তারপরও যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া সরকারের তৈরি করা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তারা মিটিং-মিছিলের মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।’
আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২২-২৪ মেয়াদে মালয়েশিয়া কর্মী প্রেরণের অনুমোদন ছিল না এমন তালিকাবহির্ভূত কিছু এজেন্সি ডামি ডিমান্ড লেটারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত এজেন্সির নামে ব্যবসা করেছে। তারাই অন্যান্য মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে মিলে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়ে পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াটি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এতে দেশের টিআইপি র্যাংকিংসহ জনশক্তি রপ্তানি সেক্টরের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি তাদের মূল বেতন ন্যূনতম এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করেছে। যা মধ্যপ্রাচ্যের যে কোন দেশের চেয়ে প্রকৃতপক্ষে দ্বিগুনেরও বেশি। এই কারণে বাংলাদেশের সাধারণ কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে অধিক আগ্রহী।’
আরও বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া সরকার ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সোর্স কান্ট্রিগুলো থেকে ফের বিদেশীকর্মী নিয়োগের অনুমোদন দিলে প্রতিবেশী দেশসহ নেপাল ও মিয়ানমারের মতো সোর্স কান্ট্রিগুলো উল্লেখযোগ্য হারে কর্মী পাঠানো শুরু করেছে। তবে বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বাংলাদেশ এই সুযোগ নিতে পারেনি।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘গত বছরের ২৭ অক্টোবর মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুনিদিষ্ট কিছু শর্ত পূরণকারী বাংলাদেশী বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা প্রেরণের অনুরোধ করে। এর ভিত্তিতে সরকার ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা পাঠায়। মালয়েশিয়া সরকার শর্ত পূরণ করা ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্য থেকে বোয়েসেলসহ ২৬টি মূল এজেন্সি এবং সহযোগী ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অবিভাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে।’
এতে দাবি করা হয়, দেশটির সরকার কর্মী নিয়োগের জন্য এসব এজেন্সির মধ্যে কোটা বরাদ্দ শুরু করেছে। বরাদ্দ করা কোটার কর্মীদের জন্য অনলাইনে ই-অ্যাম্বাসি সফটওয়্যার মডিউলে কুয়ালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এটেস্টেশনসহ পরবর্তী কার্যক্রম চলমান পর্যায়ে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক নেতারা জানান, দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও ফলপ্রসূ আলাপ-অলোচনার পর যখনই কর্মী নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে বায়রার কিছু সদস্য এজেন্সি এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা অভিবাসন প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ওই গ্রুপটি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারটিকে আবার বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
বায়রার সাবেক নেতা আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, ‘রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উচিত হবে শুধু নিজস্ব স্বার্থকে বিবেচনা না করে দেশের স্বার্থ ও কর্মীদের কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটির সুযোগ নিতে হবে। তা না হলে মালয়েশিয়া সরকার অন্যান্য সোর্স কান্ট্রি থেকে কর্মী নিয়োগ করে তাদের চাহিদা পূরণ করবে। এতে বাংলাদেশ এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারটির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আল আকাবা এসোসিয়েটের সত্ত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বিশ্বাস। ওই সময় বায়রার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
