‘মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ এএম

মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে।’

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন। তিনি বলেন, ‘শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। 

এতে বলা হয়, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মৎস্য খাতকেও এই লক্ষ্যমাত্রার অংশীদার করার সুযোগ রয়েছে। মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রস্তাবে হ্যাচারিতে সৌরচালিত পানি সঞ্চালন ও এয়ারেটর, পুকুর ও ঘেরে সৌর প্যানেল, বরফকল ও হিমাগারে সৌরবিদ্যুৎ এবং মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে সৌর ড্রায়ার ব্যবহারের করা যেতে পারে। জেলেপাড়ায় সৌর মিনি-গ্রিড স্থাপন করে আলো, মোবাইল চার্জিং, জাল তৈরির কাজ ও ঘাটে নিরাপত্তা-আলো নিশ্চিত করার সম্ভব। 

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯১৮.৪ একর খালি জমিতে ৪৪২ থেকে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে সরকার। একই মডেল পায়রা, পটুয়াখালী ও তালতলীতেও প্রয়োগ করে ‘কয়লা থেকে নবায়নযোগ্য’ জ্বালানিতে রূপান্তরের একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

সভায় আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ইকবাল ফারুক, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, সচেতন সংস্থার সভাপতি সাকিলা পারভীন, সুশীলনের ডেপুটি টিম লিডার আবু নওশের আলী সুমন, তরুণ জলবায়ু যোদ্ধা ইশতিয়াক উদ্দিন অর্ক প্রমুখ।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন