চামড়া শিল্প রপ্তানিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত ছিলো এবং এখনোও আছে। কিন্তু হাজারীবাগ থেকে যে উপায়ে সাভারে চামড়া শিল্পকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং পরে যেভাবে এই শিল্পকে অবহেলা করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ পক্রিয়াতে যে অব্যস্থাপনা ছিলো সেজন্য চামড়া শিল্প তার কাঙ্খিত পথে আগায়নি, বিগত বছরগুলোতে এই খাতকে নষ্ট করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সাভারের হরিণধরা বিসিক শিল্প নগরীর ট্যানারির কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার সিইটিপি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ।
মন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, সারাবছর যে পরিমাণ চামড়া আহোরিত হয় তার পুরোটা যদি রপ্তানি খাতে নেওয়া যেত তাহলে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিতে পরিণত হতো। যে চামড়া আমরা কাজে লাগাই তার পরিমান ০.২৬% অর্থাৎ ১% এর চার ভাগের ১ ভাগ অথচ তার ১২/১৪ গুণ বেশী এর থেকে আহরণ এবং রপ্তানিতে কাজে লাগানোর সুযোগ আছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আগামীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিইটিপি থেকে এখন কোয়ালিটি অনুযায়ী ১৪/১৮ হাজার সিপিএম বর্জ্য পরিশোধিত করা সম্ভব কিন্তু পিক টাইমে কোরবানির ঈদের পরে আমাদের পরিশোধনের প্রয়োজন হয় প্রায় ৪৫ হাজার সিপিএম।
সেজন্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীতে সক্ষম ট্যানারিগুলো তারা নিজেরা নিজেদের ইটিপি তৈরি করবে প্রয়োজনে বোধে সরকার সহায়তা দেবে। আর ছোট ট্যানারি কারখানাগুলো তারা যেন সিইটিপির অধিনে থেকে বর্জ্য পরিশোধনের কাজটি করে আমরা সে কাজটি করবো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে একটি ইটালিয়ান কোম্পানি বর্তমান সিইটিপি সক্ষমতা কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে স্ট্যাডি চলছে। সে রিপোর্ট ২ সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, মোটকথা সিইটিপি কারেকশন করা হবে, এছাড়া সক্ষম ট্যানারি কারখানাগুলো পৃথক পৃথক ইটিপি যেন করে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সামগ্রিকভাবে এ সেক্টরের উন্নয়নে জন্য সাভারে একটি বিশ্বমানের সেন্টার করা হবে। সেন্টারটি করা হলে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়ার জন্য ডিজাইনের ক্ষেত্রে থ্রি ডি ডিজাইন এবং স্কিল বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এ সেন্টার অবদান রাখবে। এর আগে মন্ত্রী বিসিক শিল্প নগরীর অফিসে বিভিন্ন ট্যানারি মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন।
সভায় ট্যানারির বর্তমান অবস্থা এবং ঈদের এই মৌসুমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, ট্যানারির ভিতর এবং আসবার পথের সার্বিক নিরাপত্তা, ট্যানারির আসবার পথে সড়কের উন্নয়ন এবং কাঁচা মালের দামসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী, ট্যানারি মালিক, শিল্প মন্ত্রণালয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিক কর্মকর্তাবৃন্দ মতবিনিময় করেন।
