চলতি অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হওয়া রপ্তানি খাতের সব ক্যাশ ইনসেনটিভ আবেদন সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হয়েছে। মোট পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকারও বেশি। অবশিষ্ট অর্থ পাট খাতে দেওয়া হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, রপ্তানি আয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা বা ক্যাশ ইনসেনটিভ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ যোগান দেওয়ায় এ খাতে প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রপ্তানি খাত সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবেই জমা হওয়া আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো ক্যাশ ইনসেনটিভ পরিশোধ হওয়ায় রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট কিছুটা কমবে এবং উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এ ধরনের সহায়তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে পাট খাতের রপ্তানিকারকরাও নগদ সহায়তা পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও সরকারের প্রণোদনা কার্যক্রম রপ্তানি ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
